বিজেপি জিতলে সীমান্ত সিল ও অনুপ্রবেশকারী মুক্ত হবে বাংলা, মমতাকে বিদায়ে শাহের মাস্টারপ্ল্যান

বিজেপি জিতলে সীমান্ত সিল ও অনুপ্রবেশকারী মুক্ত হবে বাংলা, মমতাকে বিদায়ে শাহের মাস্টারপ্ল্যান

বৃহস্পতিবার দলীয় প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারীর সমর্থনে আয়োজিত এক জনসভা থেকে তৃণমূল সরকারকে তীব্র আক্রমণ করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। ভাষণের শুরুতেই তিনি ঘোষণা করেন, আসন্ন নির্বাচনের কারণে আগামী ১৫ দিন তিনি বাংলাতেই অবস্থান করবেন এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে জনসংযোগ বজায় রাখবেন। এদিন মূলত শুভেন্দু অধিকারীসহ চার প্রার্থীর মনোনয়ন দাখিল উপলক্ষ্যে এই সভার আয়োজন করা হয়েছিল। শাহ দাবি করেন, ইতিপূর্বেই তিনি রাজ্যের প্রতিটি কোণা ঘুরে দেখেছেন এবং সর্বত্রই পরিবর্তনের ডাক শোনা যাচ্ছে।

তৃণমূল জমানার কড়া সমালোচনা করে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলার মানুষ তোলাবাজি, শাসক দলের গুন্ডামি এবং নারী নিরাপত্তাহীনতায় অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন। রাজ্যের জনতাত্ত্বিক কাঠামো বদলে দেওয়ার জন্য তিনি অবাধ অনুপ্রবেশকে দায়ী করেন। সেই সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির পাহাড় গড়ার অভিযোগও আনেন শাহ। তিনি স্পষ্ট জানান, মোদীজির নেতৃত্বে রাজ্যে বিজেপি সরকার গঠন হলে বাংলার সীমানা পুরোপুরি সিল করে দেওয়া হবে এবং চিহ্নিত অনুপ্রবেশকারীদের দেশছাড়া করা হবে।

রাজ্যের সার্বিক পরিবর্তনের জন্য অমিত শাহ একটি বিশেষ কৌশলের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, রাজ্য জুড়ে ১৭০টি আসন জেতার লক্ষ্য থাকলেও ভবানীপুরের ভোটারদের হাতে এক সহজ উপায় রয়েছে। ভবানীপুর কেন্দ্রে মমতার পরাজয় নিশ্চিত করতে পারলেই রাজ্যে পালাবদল ত্বরান্বিত হবে। রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট মনে করিয়ে দিয়ে শাহ বলেন, গতবার সরকার গড়লেও নন্দীগ্রামে শুভেন্দু অধিকারীর কাছে পরাজিত হয়েছিলেন মমতা। এবার ভবানীপুরসহ গোটা বাংলাতেই তৃণমূল হারবে বলে তিনি প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

নির্বাচনের দিন বুথে যাওয়ার ক্ষেত্রে ভীতি দূর করার বার্তাও দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি অভিযোগ করেন, তৃণমূলের গুন্ডাবাহিনী ভোটারদের বাধা দেওয়ার চেষ্টা করতে পারে বলে অনেকে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। তবে সাধারণ মানুষকে আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, এবার কেন্দ্রীয় নজরদারিতে কোনো গুন্ডার ক্ষমতা নেই ভোটারদের আটকানোর। বিজেপি কর্মীদের হত্যার বিচার এবং অপরাধীদের জেল খাটানোর প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

পরিশেষে শাহ বলেন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্বপ্নের ‘সোনার বাংলা’ গড়ে তোলাই বিজেপির মূল লক্ষ্য। সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত সাড়াকে হাতিয়ার করে তিনি মমতাকে বিদায় জানানোর আহ্বান জানান। ভবানীপুরের ভোটারদের উপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করে তিনি বুঝিয়ে দেন যে, এই কেন্দ্রটিই হতে চলেছে পরিবর্তনের এপিসেন্টার। সব মিলিয়ে শাহের এই সফর ও বক্তব্য রাজ্যের নির্বাচনী পারদকে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *