বিজেপি তাড়াও, বাংলা বাঁচাও: নববর্ষের প্রাক্কালে মমতার মোদি-বিদায়ের ডাক

চৈত্রের তীব্র দাবদাহ উপেক্ষা করে নির্বাচনী ময়দানে সুর সপ্তমে তুললেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রবিবার খণ্ডঘোষ, আসানসোল এবং ছাতনার জনসভা থেকে বিজেপিকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করে তিনি ‘বিজেপি তাড়াও বাংলা বাঁচাও’ স্লোগান তুলেছেন। আগামী পয়লা বৈশাখকেই মোদি সরকারকে বিদায় জানানোর সংকল্প দিবস হিসেবে ঘোষণা করেছেন তিনি।
বিজেপিকে বিদায়ের ডাক ও অধিকার হরণের সতর্কতা
তৃণমূল নেত্রীর অভিযোগ, বিজেপি ক্ষমতায় এলে সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার কেড়ে নেওয়া হবে। বাংলার মাটি থেকে বিজেপিকে উৎখাত করার ডাক দিয়ে তিনি বলেন, ষড়যন্ত্র করে বাংলাকে দমানো যাবে না। দিল্লি সরকারকে বদলে দেওয়ার অঙ্গীকার করে তিনি ভোটারদের সতর্ক করেন যে, ভোটের সময় বিজেপি টাকা দিয়ে ভোট কেনার চেষ্টা করলেও পরে তাদের আর দেখা পাওয়া যায় না। তিনি সাফ জানান, বাংলা মোদি-শাহের শাসন মানে না।
নারী সুরক্ষা ও তল্লাশি নিয়ে বিস্ফোরক মমতা
নারী সুরক্ষা নিয়ে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতাদের প্রচারকে কটাক্ষ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, তল্লাশির নামে মহিলাদের আসাম্মান করা হচ্ছে। অভিনেতা ও তৃণমূল নেতা কাঞ্চন মল্লিকের স্ত্রীর প্রসঙ্গ টেনে তিনি দাবি করেন, মেয়েদের ব্যবহৃত জিনিসপত্র বের করে পরীক্ষা করে অশ্লীলতার সীমা ছাড়িয়ে যাওয়া হচ্ছে। তাঁর মতে, নারীদের সম্মান রক্ষার বদলে বিজেপি তাঁদের হেনস্তা করছে।
নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনিক বৈষম্যের অভিযোগ
এদিনের সভা থেকে নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি অভিযোগ করেন, খণ্ডঘোষের সভার অনুমতি পেতে তাঁকে বেগ পেতে হয়েছে, অথচ প্রধানমন্ত্রীর সভার ক্ষেত্রে কোনো সমস্যা হয় না। এছাড়া বিজেপির বিরুদ্ধে ‘স্লো ভোটিং’ ও ‘স্লো কাউন্টিং’-এর পরিকল্পনার অভিযোগ এনে তিনি দলীয় কর্মীদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দেন।
এনআরসি ও নাগরিকত্ব ইস্যুতে কড়া অবস্থান
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মতুয়াদের নাগরিকত্ব দেওয়ার প্রতিশ্রুতির পাল্টা সমালোচনা করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, যারা ১০০ বছর ধরে বাংলায় বসবাস করছেন, তাদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে অথচ নবাগতদের সার্টিফিকেট দেওয়া হচ্ছে। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, বাংলায় কোনোভাবেই এনআরসি কার্যকর করতে দেওয়া হবে না। একইসঙ্গে বিহারের উদাহরণ টেনে তিনি দাবি করেন, সেখানে মহিলাদের থেকে টাকা ফেরত চাওয়া হচ্ছে, যা বাংলার মহিলারা হতে দেবেন না।
একঝলকে মুখ্যমন্ত্রীর প্রধান বক্তব্যসমূহ
- লক্ষ্য: ২০২৬-এর নির্বাচনে বিজেপিকে বাংলা থেকে বিতাড়িত করা।
- সংকল্প: পয়লা বৈশাখ থেকেই মোদি সরকারকে বিদায় জানানোর প্রস্তুতি।
- নারীর মর্যাদা: তল্লাশির নামে মহিলাদের হেনস্তা করার বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ।
- নাগরিকত্ব: এনআরসি রুখে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি এবং ভোটার তালিকা থেকে নাম কাটার বিরোধিতা।
- প্রশাসনিক অভিযোগ: নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বৈষম্যের অভিযোগ ও ভোট গণনায় কারচুপির আশঙ্কা।