বিধানসভা নির্বাচন মমতার মসনদ কি টলমল, বিজেপির মাস্টারস্ট্রোক ও একাধিক কেলেঙ্কারিতে চাপে তৃণমূল

পশ্চিমবঙ্গের ২৯৪টি বিধানসভা আসনে আগামী ২৮ ও ২৯ এপ্রিল ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হতে চলেছে, যার ফলাফল প্রকাশিত হবে ৪ মে। টানা চতুর্থবার ক্ষমতায় ফিরতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মরিয়া হলেও এবারের লড়াই তৃণমূলের জন্য অত্যন্ত কঠিন বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে মুসলিম ভোটব্যাঙ্কে ভাঙন এবং একাধিক দুর্নীতির অভিযোগে শাসকদল বর্তমানে ব্যাকফুটে রয়েছে।
রাজ্যের প্রায় ১২০টি আসনে মুসলিম ভোটারদের নির্ণায়ক ভূমিকা রয়েছে। তবে এবার আব্বাস সিদ্দিকী বা মিমের (AIMIM) মতো শক্তির উপস্থিতিতে তৃণমূলের সেই একচেটিয়া ভোটব্যাঙ্কে ফাটল ধরার সম্ভাবনা প্রবল। এছাড়া মমতার অতি-তোষণ নীতির অভিযোগে হিন্দু ভোটারদের একটি বড় অংশ মেরুকরণের দিকে ঝুঁকছে, যা বিজেপির পালে হাওয়া দিচ্ছে।
শাসকদলের মাথাব্যথার প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে সন্দেশখালি ইস্যু এবং আরজি কর হাসপাতালের নারকীয় ঘটনা। সন্দেশখালিতে মহিলাদের ওপর নির্যাতন ও জমি দখলের অভিযোগ রাজ্য রাজনীতিতে শোরগোল ফেলেছে। পাশাপাশি আরজি কর কাণ্ডে চিকিৎসকের মৃত্যু ও পরবর্তী আন্দোলন সরকারের ভাবমূর্তিতে বড় ধাক্কা দিয়েছে। যা নারী নিরাপত্তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে ক্ষোভ তৈরি করেছে।
দুর্নীতি ইস্যুতেও কোণঠাসা ঘাসফুল শিবির। ২০১৬-২০২১ সালের শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি বা এসএসসিকাণ্ডে আদালতের নির্দেশে হাজার হাজার চাকরি বাতিল হয়েছে। রেশন দুর্নীতি, কয়লা ও গোরু পাচার মামলায় দলের হেভিওয়েট নেতাদের নাম জড়ানোয় জনমানসে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকার রেশন কেলেঙ্কারির অভিযোগ এখন বিরোধী শিবিরের প্রধান হাতিয়ার।
অর্থনৈতিক ফ্রন্টেও সরকার চাপে। রাজ্যে বিনিয়োগের অভাবে প্রায় ৬৬০০ কো ম্পা নি পাট গুটিয়েছে এবং লক্ষ লক্ষ যুবক কর্মসংস্থানের জন্য ভিনরাজ্যে পাড়ি দিচ্ছে। সরকারি কর্মচারীদের ডিএ বকেয়া থাকা এবং পেনশন নিয়ে অসন্তোষ নির্বাচনে প্রভাব ফেলতে পারে। পালটা জবাবে বিজেপি ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ প্রকল্পের মাধ্যমে মহিলাদের মাসে ৩০০০ টাকা এবং বেকারদের ভাতার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তৃণমূলের ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’-কে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে।
ভোটার তালিকায় বিশেষ সংশোধনের মাধ্যমে প্রায় ৬৩ লক্ষ ভুয়া ভোটার বাদ পড়া তৃণমূলের জন্য বড় উদ্বেগের বিষয়। এই ভোটারদের অধিকাংশই অনুপ্রবেশকারী বলে দাবি করা হচ্ছে। ফলে মে মাসের ফলাফলই স্পষ্ট করবে যে মমতার জনকল্যাণমূলক প্রকল্প জয়ী হবে, নাকি বিজেপির উন্নয়ন ও পরিবর্তনের ডাক বাংলার তখত দখল করবে।