বিধানসভা ভোটের আগে সংখ্যালঘু সমীকরণে রদবদল, বীরভূমে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে ৪০টি পরিবার

বিধানসভা ভোটের আগে সংখ্যালঘু সমীকরণে রদবদল, বীরভূমে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে ৪০টি পরিবার

পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমশ বাড়ছে। রাজ্যে প্রায় ৩০ শতাংশ সংখ্যালঘু ভোটার থাকায় বরাবরই এই ভোটব্যাঙ্ককে বিশেষ গুরুত্ব দেয় রাজনৈতিক দলগুলি। গত নির্বাচনে মুসলিম ভোটারদের একটি বড় অংশ তৃণমূল কংগ্রেসের পাশে থাকলেও, এবারের নির্বাচনে সেই সমীকরণে পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। বিশেষ করে বীরভূম জেলায় বড়সড় ভাঙন লক্ষ্য করা গিয়েছে শাসক শিবিরে। সোমবার বীরভূমের লাভপুর বিধানসভা কেন্দ্রের দরকা অঞ্চল থেকে প্রায় ৪০টি সংখ্যালঘু পরিবার তৃণমূল কংগ্রেস ত্যাগ করে ভারতীয় জনতা পার্টিতে (বিজেপি) যোগদান করেছে।

লাভপুরের বিজেপি প্রার্থী দেবাশিস ওঝার হাত থেকে দলীয় পতাকা গ্রহণ করেন এই সংখ্যালঘু পরিবারের সদস্যরা। গেরুয়া শিবিরে যোগদানের পর দেবাশিস ওঝা দাবি করেন, তৃণমূল দীর্ঘদিন ধরে সংখ্যালঘুদের বিভ্রান্ত ও প্রতারিত করেছে। এমনকি বিভিন্ন মামলার ভয় দেখিয়ে তাঁদের দমিয়ে রাখার চেষ্টাও করা হয়েছে। তাঁর মতে, এখন সংখ্যালঘুরা বুঝতে পেরেছেন যে বিজেপি তাঁদের শত্রু নয়, বরং তাঁদের প্রকৃত উন্নয়নের সহযোগী। বিশেষ করে ‘দেশপ্রেমিক মুসলমানদের’ প্রতি বিজেপির আহ্বানে সাড়া দিয়ে এই দলবদল বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ।

অন্যদিকে, এই দলবদলকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে নারাজ তৃণমূল কংগ্রেস। লাভপুরের তৃণমূল প্রার্থী অভিজিৎ সিনহা অভিযোগ করেছেন, মাত্র কয়েকজন মানুষকে ভুল বুঝিয়ে এবং মিথ্যা তথ্য দিয়ে বিজেপিতে নেওয়া হয়েছে। তাঁর পাল্টা দাবি, কেন্দ্রীয় সরকার এবং নির্বাচন কমিশন পরিকল্পিতভাবে সংখ্যালঘুদের ওপর মানসিক চাপ সৃষ্টি করছে এবং ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে। তবে বিধানসভা নির্বাচনের মুখে বীরভূমের মতো গুরুত্বপূর্ণ জেলায় সংখ্যালঘু ভোটের এই স্থানান্তর ঘিরে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *