বিনা পয়সায় পাহারা দেব না! চীনসহ শক্তিশালী দেশগুলোকে চরম হুঁশিয়ারি দিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প

বিশ্ব রাজনীতি ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য রুটে আধিপত্য বিস্তারের লড়াইয়ে আবারও সরব হয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরান যখন পাকিস্তানের সঙ্গে আলোচনার টেবিলে ব্যস্ত, ঠিক তখনই ট্রাম্প চীন, জাপান এবং ফ্রান্সের মতো শক্তিশালী দেশগুলোর প্রতি কড়া বার্তা দিয়েছেন। তার এই বক্তব্য বিশ্বজুড়ে জ্বালানি নিরাপত্তা এবং কূটনৈতিক সম্পর্কের নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে।
বড় দেশগুলোকে ট্রাম্পের তোপ
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প সরাসরি চীন, জাপান, ফ্রান্স, দক্ষিণ কোরিয়া এবং জার্মানির সমালোচনা করেছেন। তার দাবি, এই দেশগুলো নিজেদের জ্বালানি নিরাপত্তার দায়িত্ব নিতে অপরাগ। ট্রাম্পের বক্তব্যের মূল দিকগুলো হলো:
- সাহস ও ইচ্ছাশক্তির অভাব: ট্রাম্পের মতে, বিশ্ব অর্থনীতি যেসব দেশের ওপর নির্ভরশীল, তাদের হোর্মুজ প্রণালীকে নিরাপদ রাখার মতো সাহস বা ইচ্ছাশক্তি কোনোটিই নেই।
- আমেরিকার ওপর নির্ভরতা: হোর্মুজ প্রণালী উন্মুক্ত রাখার মাধ্যমে আমেরিকা আসলে এসব দেশকে পরোক্ষভাবে সহায়তা করছে। ট্রাম্প একে অন্য দেশের প্রতি আমেরিকার একপক্ষীয় ‘উপকার’ হিসেবে দেখছেন।
- তেলের জন্য আমেরিকার দিকেই যাত্রা: তিনি লক্ষ্য করেছেন যে, বিভিন্ন দেশের তেলের জাহাজগুলো জ্বালানি সংগ্রহের জন্য এখন আমেরিকার দিকেই মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে, যা বিশ্ব শক্তি হিসেবে আমেরিকার অবস্থানকে আরও পোক্ত করে।
হোর্মুজ প্রণালীর গুরুত্ব ও বর্তমান উত্তেজনা
পারস্য উপসাগর এবং ওমান উপসাগরের মধ্যবর্তী এই সরু সমুদ্রপথটি বিশ্ব জ্বালানি বাজারের প্রাণকেন্দ্র। বিশ্বের মোট উৎপাদিত অপরিশোধিত তেলের এক-তৃতীয়াংশ এই পথ দিয়েই পরিবাহিত হয়। এই এলাকায় সামান্য উত্তেজনাও বিশ্বজুড়ে তেলের দাম আকাশচুম্বী করে দিতে পারে।
ট্রাম্প এমন এক সময়ে এই মন্তব্য করলেন যখন মধ্যপ্রাচ্যে ব্যাপক উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং ইরানের সঙ্গে শান্তি আলোচনার প্রক্রিয়া চলছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্পের এই আক্রমণাত্মক অবস্থান কেবল চীন নয়, বরং আমেরিকার দীর্ঘদিনের মিত্র দেশগুলোর সঙ্গেও কূটনৈতিক টানাপড়েন তৈরি করতে পারে।
বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তায় প্রভাব
ট্রাম্পের এই কঠোর অবস্থান ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, আগামী দিনে আমেরিকা হয়তো জ্বালানি রুটের নিরাপত্তা রক্ষার ব্যয়ভার একা বহন করতে চাইবে না। তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, উন্নত দেশগুলোর অর্থনীতি তেল আমদানির ওপর নির্ভরশীল হওয়া সত্ত্বেও তারা নিজেদের নিরাপত্তার দায়িত্ব এড়িয়ে যাচ্ছে। এটি সরাসরি বৈশ্বিক জ্বালানি সমীকরণে আমেরিকার ক্রমবর্ধমান প্রভাব এবং অন্যান্য দেশের ওপর চাপের ইঙ্গিত দেয়।
একঝলকে
- ইরান-পাকিস্তান আলোচনার মাঝেই ট্রাম্পের কূটনৈতিক আক্রমণ।
- চীন, জাপান ও ফ্রান্সের মতো দেশগুলোকে নিরাপত্তার প্রশ্নে তুলোধুনো।
- আমেরিকা এককভাবে হোর্মুজ প্রণালী নিরাপদ রাখছে বলে ট্রাম্পের দাবি।
- দেশগুলোকে নিজ নিজ জ্বালানি পথের সুরক্ষা নিতে কড়া বার্তা।
- বিশ্ব তেলের বাজারে অস্থিরতার আশঙ্কায় কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা।