বিপজ্জনক শীর্ষে ভারত শিশুদের ক্যানসার মৃত্যু নিয়ে ল্যানসেট রিপোর্টে চাঞ্চল্যকর তথ্য

বিশ্বজুড়ে শিশুদের ক্যানসার আক্রান্ত হওয়া ও মৃত্যু নিয়ে উদ্বেগের কথা জানাল খ্যাতনামা চিকিৎসা সাময়িকী ‘ল্যানসেট’। ২০২৪ সালের প্রকাশিত একটি গবেষণা রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, শিশুদের ক্যানসারজনিত মৃত্যুর নিরিখে ভারত বর্তমানে বিশ্বের শীর্ষে অবস্থান করছে। ২০২৩ সালের পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ভারতে এই মারণ রোগে আক্রান্ত হয়ে ১৭ হাজার শিশুর মৃত্যু হয়েছে, যা চিনের (১৬ হাজার) তুলনায় বেশি। পাকিস্তান ও নাইজেরিয়াতেও এই সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
গবেষণায় দেখা গেছে, ক্যানসারে আক্রান্ত শিশুদের ৯৪ শতাংশ মৃত্যু এবং ৮৫ শতাংশ নতুন সংক্রমণের ঘটনা ঘটে মূলত নিম্ন ও মধ্য আয়ের দেশগুলোতে। উন্নত বিশ্বের তুলনায় এই দেশগুলোতে উন্নত মানের স্বাস্থ্য পরিষেবা এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসার অপ্রতুলতাকেই এর প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন বিশেষজ্ঞরা। বিশেষ করে সম্পদের অভাব রয়েছে এমন দেশগুলোতে শিশুদের মৃত্যুর অষ্টম বৃহত্তম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ক্যানসার।
‘গ্লোবাল বার্ডেন অফ ডিজিজেস, ইনজুরি অ্যান্ড রিস্ক ফ্যাক্টরস স্টাডি’ (জিবিডি)-র তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ২০২৩ সালে বিশ্বজুড়ে ৩ লক্ষ ৭৭ হাজার শিশু ক্যানসারে আক্রান্ত হয়েছে। এর ফলে প্রাণ হারিয়েছে প্রায় ১ লক্ষ ৪৪ হাজার খুদে। ১৯৯০ সালের তুলনায় বৈশ্বিক পর্যায়ে শিশু ক্যানসার মৃত্যু ২৭ শতাংশ কমলেও আফ্রিকার দেশগুলোতে এই হার আশঙ্কাজনকভাবে ৫৫.৬ শতাংশ বেড়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, শিশুদের মৃত্যুর জন্য সবচেয়ে বেশি দায়ী লিউকেমিয়া বা ব্লাড ক্যানসার। গত বছর বিশ্বজুড়ে ৪৫ হাজার ৯০০ শিশু লিউকেমিয়ায় আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারিয়েছে। মৃত্যুর তালিকায় এর পরেই রয়েছে মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতন্ত্রের ক্যানসার (২৩,২০০ জন) এবং লসিকা গ্রন্থির ক্যানসার বা ‘নন-হজকিন লিম্ফোমা’ (১৫,২০০ জন)। ভারতের মতো নিম্ন-মধ্যবিত্ত দেশগুলোতে ক্যানসারজনিত মোট মৃত্যুর তালিকায় শিশুদের এই অবস্থান ১১ নম্বরে।
গবেষকরা উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছেন যে, ভৌগোলিক অবস্থান ও আর্থিক বৈষম্যের কারণে শিশুদের বাঁচার হার মারাত্মকভাবে প্রভাবিত হচ্ছে। বিশেষ করে অনুন্নত স্বাস্থ্য অবকাঠামো এবং ক্যানসারের প্রাথমিক উপসর্গগুলো শনাক্ত না হওয়ার ফলে আক্রান্ত দেশগুলোতে পরিস্থিতি আরও জটিল হচ্ছে। এই বৈষম্য দূর করতে বিশ্বব্যাপী স্বাস্থ্য পরিষেবা ও সম্পদের সঠিক বণ্টনের ওপর জোর দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।