বিপদের মুহূর্তে আপনিই হবেন ‘হিরো’! জীবন বাঁচাতে শিখুন এই ৫টি জাদুকরী কৌশল

আধুনিক জীবনযাত্রায় দুর্ঘটনা বা শারীরিক বিপর্যয় কখন আসবে, তা আগে থেকে বলা কঠিন। রাস্তাঘাট হোক বা ঘরের ভেতরে, হঠাত কোনো বিপদে চিকিৎসা সহায়তা পৌঁছানোর আগের সময়টুকুই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় ‘গোল্ডেন আওয়ার’। এই সময়ে সঠিক পদক্ষেপ নিতে পারলে একটি নিশ্চিত মৃত্যুর মুখ থেকে কাউকে ফিরিয়ে আনা সম্ভব। জীবন বাঁচাতে সহায়ক এমন পাঁচটি জীবনদায়ী কৌশল নিয়ে আমাদের আজকের বিশেষ প্রতিবেদন।
১. হার্ট সচল রাখার মন্ত্র সিপিআর
হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে বা শ্বাসকষ্টের কারণে কেউ জ্ঞান হারালে ‘কার্ডিওপালমোনারি রিসাসিটেশন’ বা সিপিআর (CPR) হতে পারে প্রাণদাতার প্রধান অস্ত্র।
- পদ্ধতি: আক্রান্ত ব্যক্তিকে শক্ত মেঝেতে শুইয়ে দিন। বুকের মাঝখানে দুই হাতের তালু একটির ওপর আরেকটি রেখে শক্ত করে এবং দ্রুত চাপ দিতে হবে।
- প্রভাব: এর ফলে মস্তিষ্ক ও শরীরের প্রধান অঙ্গগুলোতে রক্ত সঞ্চালন সচল থাকে, যা রোগীকে পুনরুজ্জীবিত করতে সাহায্য করে।
২. রক্তক্ষরণ বন্ধ করা
দুর্ঘটনায় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ। রক্তক্ষরণ নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে রোগীর শক বা রক্তচাপ কমে যাওয়া ঠেকানো সম্ভব।
- পদ্ধতি: আঘাতের স্থানে পরিষ্কার কাপড় দিয়ে জোরে চেপে ধরে রাখুন। যদি কাপড় রক্তে ভিজে যায়, তবে সেটি না সরিয়ে তার ওপরেই আরও একটি কাপড় দিয়ে চাপ দিন। একে বলা হয় ‘ডিরেক্ট প্রেসার’ পদ্ধতি।
৩. গলার বাধা দূর করতে হাইমলিচ ম্যানুভার
অনেক সময় খাবার বা ছোট কোনো বস্তু গলায় আটকে গিয়ে শ্বাসরোধের মতো পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এই অবস্থায় ‘হাইমলিচ ম্যানুভার’ জীবন বাঁচাতে কার্যকর।
- পদ্ধতি: আক্রান্ত ব্যক্তির পেছনে দাঁড়িয়ে তাকে দুই হাত দিয়ে জড়িয়ে ধরুন। নাভির ঠিক ওপরে এবং পাঁজরের নিচে দুই হাত মুষ্টিবদ্ধ করে জোরে চাপ দিন। এতে ভেতরের বাতাসের চাপে আটকে থাকা বস্তু বাইরে বেরিয়ে আসবে।
৪. বিদ্যুৎ ও অগ্নি দুর্ঘটনায় সতর্কতা
যেকোনো দুর্ঘটনায় উদ্ধারকারীকে প্রথমে নিজের নিরাপত্তার কথা ভাবতে হয়।
- বিদ্যুৎ: কাউকে শক খেতে দেখলে সরাসরি স্পর্শ করবেন না। প্রথমে মেইন সুইচ বন্ধ করুন বা শুকনো কাঠ দিয়ে তাকে বিদ্যুৎ সংযোগ থেকে দূরে সরিয়ে দিন।
- অগ্নি: শরীরে আগুন লাগলে দৌড়াবেন না, এতে আগুন আরও বাড়ে। ‘থামুন, নিচে শুয়ে পড়ুন এবং গড়াগড়ি দিন’— এই নিয়মটি মেনে চলুন।
৫. জরুরি কিট ও হেল্পলাইন নম্বর
প্রস্তুতি অর্ধেক বিজয়। প্রতিটি বাড়িতে একটি জরুরি কিট রাখা জরুরি যেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার সরঞ্জাম, টর্চলাইট এবং প্রয়োজনীয় ঔষধ থাকবে। পাশাপাশি জরুরি নম্বরগুলো মনে রাখা আবশ্যক।
- প্রয়োজনীয় নম্বর: ১১২ (জরুরি সেবা), ১০৮ (অ্যাম্বুলেন্স), ১০১ (দমকল)। এই নম্বরগুলো পরিবারের ছোট-বড় সবার নখদর্পণে থাকা উচিত।
একঝলকে
- গোল্ডেন আওয়ার: দুর্ঘটনার পরবর্তী প্রথম কয়েক মিনিট জীবন বাঁচানোর জন্য সবচেয়ে দামি।
- সিপিআর: হার্ট অ্যাটাকের রোগীদের ক্ষেত্রে রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক রাখতে অপরিহার্য।
- রক্তক্ষরণ: আক্রান্ত স্থান সরাসরি চেপে ধরে রক্ত বন্ধ করতে হবে।
- হাইমলিচ ম্যানুভার: গলায় কিছু আটকে গেলে শ্বাসপথ পরিষ্কার করার পদ্ধতি।
- জরুরি নম্বর: ১১২ এবং ১০৮ নম্বরগুলো বিপদের সময় তাৎক্ষণিক সহায়তার চাবিকাঠি।