বিপাকে বিরিয়ানি থেকে মিষ্টির দোকান বাণিজ্যিক গ্যাসের আকালে বন্ধ হতে পারে নামী রেস্তরাঁও

কলকাতা ও শহরতলি জুড়ে তীব্র বাণিজ্যিক গ্যাস সংকট দেখা দেওয়ায় কার্যত মাথায় হাত পড়েছে রেস্তরাঁ ও ক্যাফে মালিকদের। সাউথ সিটি কলেজের জনপ্রিয় ফুড জয়েন্ট থেকে শুরু করে ব্যারাকপুরের বিখ্যাত দাদা বউদির বিরিয়ানি— সর্বত্রই হাহাকার। গ্যাসের জোগান না থাকায় বিরিয়ানি বা সেদ্ধ জাতীয় খাবারে কাটছাঁট করার কথা ভাবছেন ব্যবসায়ীরা।
পরিস্থিতি এতটাই প্রতিকূল যে দক্ষিণ কলকাতার সাউথ সিটি কলেজ সংলগ্ন ফুড জয়েন্টের কর্ণধার রাজেশ চৌরাসিয়া দোকান বন্ধের আশঙ্কা করছেন। তিনি জানান, গ্যাস না থাকায় কর্মীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি চিন্তিত। একই অবস্থা ব্যারাকপুরের দাদা বউদির বিরিয়ানির দোকানেও। মালিক সঞ্জীব সাহা জানিয়েছেন, হাতে থাকা মজুত গ্যাসে বড়জোড় দুদিন কাজ চলবে। এরপর বিকল্প হিসেবে কাঠে বিরিয়ানি তৈরির কথা ভাবলেও অন্যান্য রান্না বন্ধ রাখতে হতে পারে। সেখানে কর্মরত প্রায় ৬০০ কর্মীর রুজি-রুটির টান পড়ার উপক্রম হয়েছে।
গ্যাসের এই সংকট থেকে রেহাই পায়নি শহরের নামী রেস্তরাঁগুলিও। সিরাজ গোল্ডেন রেস্তরাঁর ম্যানেজিং ডিরেক্টর ইশতেয়াক আহমেদ রান্নার কাজে গভীর প্রভাব পড়ার কথা স্বীকার করেছেন। চাউম্যান ও আউধ ১৫৯০-এর ডিরেক্টর দেবাদিত্য চৌধুরী জানিয়েছেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে মেনু ছোট করতে বাধ্য হবেন তাঁরা। অনেক ক্যাফে ও ছোট দোকান এখন বাধ্য হয়ে ইন্ডাকশন কুকার বা পুরনো কয়লার উনুনের ওপর নির্ভর করতে শুরু করেছে। সোদপুরের এক বিস্কুট প্রস্তুতকারক সংস্থা ইন্ডিয়ান অয়েল কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিলেও কোনো সদর্থক উত্তর মেলেনি বলে অভিযোগ। শহর থেকে শহরতলি— সর্বত্রই এখন হাহাকার তুঙ্গে।