বিপুল বদলি নিয়ে কমিশনের সাফাই: বাংলার নিশানায় কি শুধুই রাজনীতির রং?

ভোটমুখী পাঁচ রাজ্যে গত ১৭ দিনে মোট ৫০৬ জন আধিকারিককে বদলি করেছে নির্বাচন কমিশন, যার মধ্যে সিংহভাগ অর্থাৎ ৪৮৩ জনই পশ্চিমবঙ্গের। অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের লক্ষ্যে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে কমিশনের দাবি। তবে নজিরবিহীন এই গণ-বদলির তীব্র বিরোধিতা করে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে চিঠি দিয়েছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিষয়টিকে কমিশনের ‘স্বেচ্ছাচারী’ আচরণ হিসেবে বর্ণনা করেছে রাজ্যের শাসক দল।
পাল্টা যুক্তিতে কমিশন জানিয়েছে, ভোট ঘোষণার আগে রাজ্য সরকার নিজেই ১৩৭০ জন আধিকারিককে বদলি করেছিল। এর মধ্যে ৯৭ জন আমলা এবং ১৪৬ জন শীর্ষ পুলিশকর্তা রয়েছেন। কমিশনের মতে, পূর্ববর্তী বদলিজনিত বিশৃঙ্খলা সংশোধনের জন্যই এই পদক্ষেপ। এদিকে, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে মাত্র ১৫ জন আধিকারিকের বদলির তুলনায় বর্তমান সংখ্যাটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
বিরোধীদের অভিযোগ, নির্দিষ্টভাবে পশ্চিমবঙ্গকে ‘টার্গেট’ করেই এই ব্যাপক রদবদল চালানো হচ্ছে। মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব এবং ডিজি পদমর্যাদার কর্তাসহ বহু রিটার্নিং অফিসার ও বিডিও-কে সরানো হয়েছে। কমিশনের এই সাফাইকে প্রশাসনিক মহলের একাংশ স্রেফ ‘মুখরক্ষার চেষ্টা’ হিসেবে দেখছে। শাসক শিবিরের দাবি, এই ধরনের পদক্ষেপ কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়েই বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিচ্ছে।