বিবাহবিচ্ছেদের আনন্দে ৯ কিলোমিটার দণ্ডি কেটে মন্দিরে যুবক

বিবাহবিচ্ছেদের আনন্দে ৯ কিলোমিটার দণ্ডি কেটে মন্দিরে যুবক

বিবাহবিচ্ছেদের মাধ্যমে অসহনীয় দাম্পত্য জীবন থেকে মুক্তি পেয়ে এক অভিনব উদযাপন করলেন উত্তরপ্রদেশের এক যুবক। সাধারণত মানুষ দাম্পত্য সুখের কামনায় মন্দিরে মানত করেন, কিন্তু বস্তি জেলার এই বাসিন্দা বিচ্ছেদ চেয়েই ঈশ্বরের শরণাপন্ন হয়েছিলেন। দীর্ঘ দিনের মানসিক অশান্তি থেকে মুক্তি পাওয়ার খুশিতে তিনি গ্রাম থেকে মন্দির পর্যন্ত ৯ কিলোমিটার পথ দণ্ডি কেটে অতিক্রম করেন।

ওই যুবকের বিয়ের বয়স ছিল মাত্র দুই বছর। দাম্পত্য জীবনের শুরু থেকেই স্ত্রীর সঙ্গে তাঁর তীব্র মনোমালিন্য ও ঝগড়া শুরু হয়। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে তিনি এই সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসতে মরিয়া হয়ে ওঠেন। তখনই তিনি স্থানীয় মন্দিরে মানত করেন যে, আইনত বিবাহবিচ্ছেদ সম্পন্ন হলে তিনি সশরীরে দণ্ডি কেটে মন্দিরে পূজা দিতে আসবেন।

সম্প্রতি আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাঁদের বিবাহবিচ্ছেদ সম্পন্ন হয়। নিজের মানত পূরণ করতে যুবকটি সাতসকালেই তাঁর গ্রাম থেকে বের হন। গন্তব্য ছিল ৯ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ভানপুরের ভাদবা মাতা মন্দির। পায়ে হেঁটে নয়, বরং রাস্তার ওপর সাষ্টাঙ্গে শুয়ে দণ্ডি কেটেই তিনি মন্দিরের দিকে এগোতে থাকেন। এই যাত্রায় তাঁর সঙ্গে ছিলেন বন্ধু-বান্ধব ও পরিবারের সদস্যরা।

সকাল থেকে শুরু করে শেষ বিকেল পর্যন্ত চলে এই কৃচ্ছ্রসাধন। দীর্ঘ পথ দণ্ডি কাটার ফলে যুবকের হাঁটু ও শরীরের বিভিন্ন অংশ থেকে রক্ত ঝরতে শুরু করে। ক্লান্তিতে শরীর ভেঙে পড়লেও সংকল্প থেকে বিচ্যুত হননি তিনি। বিকেল নাগাদ যখন তিনি ভাদবা মাতা মন্দিরে পৌঁছান, তখন তাঁর শারীরিক অবস্থা বেশ শোচনীয় ছিল। তবুও মুক্তি পাওয়ার আনন্দে তাঁর চোখে-মুখে তৃপ্তির ছাপ লক্ষ্য করা যায়।

সমাজের প্রচলিত রীতির বাইরে গিয়ে এমন ঘটনা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। মানুষ যেখানে সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে মন্দিরে ছোটেন, সেখানে বিচ্ছেদের আনন্দ উদযাপনে এমন কঠিন শারীরিক কষ্ট বরণ করার বিষয়টি বিরল। যুবকের এই দণ্ডবৎ যাত্রার খবর এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রীতিমতো ভাইরাল।

এই ঘটনাটি আবারও প্রমাণ করল যে, অনেক সময় বিচ্ছেদও মানুষের জীবনে বড় স্বস্তি ও আনন্দের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। ৯ কিলোমিটারের এই কষ্টসাধ্য যাত্রার মাধ্যমে ওই যুবক তাঁর জীবনের এক দুঃসহ অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটালেন। বর্তমানে তিনি সুস্থ আছেন এবং নতুন করে জীবন শুরু করার কথা ভাবছেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *