“বিবেকহীন পুলিশ, অমানবিক হাসপাতাল!” গাজিয়াবাদ কাণ্ডে সুপ্রিম কোর্টের নজিরবিহীন তোপ

“বিবেকহীন পুলিশ, অমানবিক হাসপাতাল!” গাজিয়াবাদ কাণ্ডে সুপ্রিম কোর্টের নজিরবিহীন তোপ

গাজিয়াবাদে চার বছরের এক শিশুকন্যাকে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় পুলিশের অমানবিক ও সংবেদনহীন আচরণে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছে সুপ্রিম কোর্ট। শুক্রবার মামলার শুনানির সময় শীর্ষ আদালতের বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ও বিচারপতি বিপুল এম পাঞ্চোলির বেঞ্চ এই ঘটনার বিবরণকে ‘আদালতের বিবেকের ওপর আঘাত’ বলে অভিহিত করেছেন। ঘটনার গুরুত্ব বিচার করে গাজিয়াবাদের পুলিশ কমিশনারকে সমস্ত মূল নথিপত্রসহ সশরীরে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

পুলিশের চূড়ান্ত উদাসীনতা ও মামলার প্রেক্ষাপট

গত ১৬ মার্চ ২০২৬ তারিখে এক প্রতিবেশী চকোলেটের প্রলোভন দেখিয়ে শিশুটিকে বাড়ি থেকে নিয়ে যায়। দীর্ঘক্ষণ নিখোঁজ থাকার পর একটি স্কুলের পিছনের মাঠ থেকে রক্তাক্ত ও অচেতন অবস্থায় তাকে উদ্ধার করা হয়। অভিযোগ উঠেছে, এরপরেই শুরু হয় পুলিশ ও বেসরকারি হাসপাতালগুলোর চূড়ান্ত অমানবিকতা।

  • দুটি বেসরকারি হাসপাতাল গুরুতর আহত শিশুটিকে ভর্তি নিতে অস্বীকার করে।
  • পুলিশ অভিযোগ নিতে অস্বীকার করে এবং ঘটনার একদিন পর এফআইআর দায়ের হয়।
  • পরিবারের দাবি, পুলিশ তথ্য গোপন করার চেষ্টা করছে এবং তাদের হেনস্থা করা হচ্ছে।

আদালতের পর্যবেক্ষণ ও আইনি ত্রুটি

সুপ্রিম কোর্টের বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়েছে যে, এই মামলায় বেসরকারি হাসপাতাল এবং স্থানীয় পুলিশের আচরণ অত্যন্ত উদ্বেগজনক। পোস্টমর্টেম রিপোর্টে শিশুটির গোপনাঙ্গে গুরুতর আঘাত ও রক্তক্ষরণের চিহ্ন থাকলেও পুলিশ প্রাথমিকভাবে পকসো (POCSO) আইন বা ধর্ষণের ধারা যুক্ত করেনি। আদালত মনে করছে, পুরো ঘটনাটিকে শুধুমাত্র সাধারণ ‘খুন’ হিসেবে দেখানোর একটি পরিকল্পিত চেষ্টা চলছে।

পুলিশের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ

আবেদনকারীর আইনজীবী এন হরিহরণ আদালতে জানান যে, পুলিশ ঘটনার প্রকৃত বিবরণ বিকৃত করছে। পুলিশের দাবি অনুযায়ী শিশুটি মৃত অবস্থায় উদ্ধার হয়েছিল, কিন্তু স্থানীয়দের ধারণ করা ভিডিওতে শিশুটিকে জীবিত দেখা গিয়েছিল। আরও অভিযোগ করা হয়েছে যে, ব্যবস্থা নেওয়ার বদলে পুলিশ উল্টে নির্যাতিতার পরিবারকে থানায় আটকে রেখে মারধর করেছে এবং প্রতিবেশীদের বিরুদ্ধে ‘শান্তিভঙ্গ’-এর নোটিস পাঠাচ্ছে।

কড়া পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি

সুপ্রিম কোর্ট উত্তরপ্রদেশ সরকার, সংশ্লিষ্ট পুলিশ প্রশাসন এবং দুই বেসরকারি হাসপাতালকে নোটিস জারি করেছে। আদালত জানিয়েছে, এই মামলার তদন্তের জন্য বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) বা কেন্দ্রীয় কোনো সংস্থাকে দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। সেই সঙ্গে নির্যাতিতার পরিচয় গোপন রাখার বিষয়ে কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

একঝলকে

  • ঘটনা: ৪ বছরের শিশুকন্যাকে ধর্ষণ ও খুনের অভিযোগ।
  • আদালতের অবস্থান: গাজিয়াবাদের পুলিশ কমিশনার ও সংশ্লিষ্ট থানার ওসি-কে সশরীরে তলব।
  • মূল অভিযোগ: বেসরকারি হাসপাতালের চিকিৎসা দিতে অস্বীকার এবং পুলিশের এফআইআর নিতে অনীহা।
  • তদন্তের ত্রুটি: যৌন নির্যাতনের প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও পকসো আইন প্রয়োগ না করা।
  • পরবর্তী পদক্ষেপ: কেন্দ্রীয় সংস্থা বা সিট (SIT) দিয়ে তদন্তের সম্ভাবনা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *