বিমানের ভাড়ায় সর্বোচ্চ সীমা প্রত্যাহার কেন্দ্রের, আজ থেকেই আকাশছোঁয়া হওয়ার আশঙ্কা

পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে জ্বালানি সংকটের আবহে ঘরোয়া বিমান ভাড়ার ওপর থেকে সর্বোচ্চ সীমা বা ‘প্রাইস ক্যাপ’ প্রত্যাহার করল কেন্দ্র। সোমবার থেকেই এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়ায় দেশজুড়ে বিমান ভাড়া একলাফে অনেকটা বৃদ্ধির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। গত ডিসেম্বর থেকে গন্তব্যভেদে টিকিটের সর্বোচ্চ দাম ১৮ হাজার টাকায় বেঁধে দিয়েছিল মোদি সরকার। ফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান এয়ারলাইন্স এবং বিভিন্ন বিমান সংস্থার পক্ষ থেকে আর্থিক ক্ষতির দোহাই দিয়ে এই সীমা তুলে নেওয়ার আর্জি জানানো হয়েছিল।
কেন্দ্রীয় অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রী রামমোহন নাইডু জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়ায় আগামী ১ এপ্রিল থেকে বিমান ভাড়ায় বড়সড় প্রভাব পড়তে পারে। ইতিমধ্যে ইন্ডিগো ও এয়ার ইন্ডিয়ার মতো সংস্থাগুলি জ্বালানি সারচার্জ বসাতে শুরু করেছে। তবে সরকার জানিয়েছে, কঠিন পরিস্থিতিতে অযৌক্তিক ভাড়া বৃদ্ধির ওপর কড়া নজরদারি চালানো হবে। যাত্রীদের স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনে ভবিষ্যতে আবারও টিকিটের দামে ঊর্ধ্বসীমা নির্ধারণের পথ খোলা রেখেছে মন্ত্রক।
বর্তমানে ইরান-ইজরায়েল সংঘাতের কারণে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ায় এভিয়েশন টারবাইন ফুয়েলের (এটিএফ) দাম ক্রমাগত বাড়ছে। এই সংকট মোকাবিলায় অসামরিক বিমান পরিবহণ, পেট্রলিয়াম এবং বিদেশ মন্ত্রককে যৌথভাবে আলোচনায় বসার ইঙ্গিত দিয়েছেন মন্ত্রী। গত বছর ইন্ডিগোর পরিষেবা ব্যাহত হওয়ায় ভাড়ার লাগাম টানতে যে সাময়িক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল, বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে তা প্রত্যাহারে সাধারণ বিমানযাত্রীদের পকেটে টান পড়ার সম্ভাবনা প্রবল হয়ে উঠেছে।