বিমানে ভ্রমণ আরও মহার্ঘ্য, একলাফে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত বাড়ছে টিকিট ভাড়া

আকাশছোঁয়া জ্বালানির দামের কোপ এবার সরাসরি যাত্রীদের পকেটে। দেশের বৃহত্তম বিমান সংস্থা ইন্ডিগো এক চাঞ্চল্যকর ঘোষণায় জানিয়েছে, ২রা এপ্রিল, ২০২৬ থেকে প্রতিটি টিকিটের ওপর অতিরিক্ত ‘ফুয়েল চার্জ’ বা জ্বালানি শুল্ক চাপানো হচ্ছে। এর ফলে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক উভয় রুটে বিমান ভ্রমণের খরচ একধাক্কায় অনেকটা বেড়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের ক্ষেত্রে এই বাড়তি খরচের বোঝা ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।
বিমানের জ্বালানি বা এভিয়েশন টারবাইন ফুয়েলের (ATF) দাম অস্বাভাবিক বৃদ্ধিই এই সিদ্ধান্তের মূল কারণ। গত এক মাসে জেট ফুয়েলের দাম প্রায় ১৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা ভারতের বিমান চলাচলের ইতিহাসে নজিরবিহীন। বর্তমানে প্রতি কিলোলিটার এটিএফ-এর দাম ২ লক্ষ টাকা ছাড়িয়ে গেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের মূল্যবৃদ্ধি ও মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতির কারণে লোকসান সামাল দিতেই এই পদক্ষেপ নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
অভ্যন্তরীণ রুটে দূরত্বের ওপর ভিত্তি করে নতুন শুল্ক কার্যকর হবে। ৫০০ কিমি পর্যন্ত অতিরিক্ত ২৭৫ টাকা এবং ৫০০ থেকে ১০০০ কিমি পর্যন্ত ৪০০ টাকা বাড়তি গুনতে হবে। ১০০০ থেকে ২০০০ কিমি দূরত্বের ক্ষেত্রে ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা এবং ২০০০ কিমির বেশি দূরত্বের ফ্লাইটে অতিরিক্ত ৯৫০ টাকা পর্যন্ত চার্ট ধার্য করা হয়েছে। ফলে দেশের ভেতরে যাতায়াতও এখন সাধারণের সাধ্যের বাইরে চলে যাচ্ছে।
আন্তর্জাতিক যাত্রীদের জন্য এই ধাক্কা আরও তীব্র। ভারতীয় উপমহাদেশের রুটে ৯০০ থেকে ২,৫০০ টাকা এবং মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ৩,০০০ থেকে ৫,০০০ টাকা অতিরিক্ত চার্জ দিতে হবে। এছাড়া আফ্রিকা ও গ্রিসের ক্ষেত্রে ৫,০০০ থেকে ৭,৫০০ টাকা এবং যুক্তরাজ্য ও ইউরোপের ফ্লাইটে সর্বোচ্চ ১০,০০০ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত ভাড়া গুণতে হবে পর্যটকদের।
সামনেই গরমের ছুটি এবং নির্বাচনের মরশুম। এই সময়ে ভাড়ার এই ব্যাপক বৃদ্ধি মধ্যবিত্ত পর্যটক, শিক্ষার্থী এবং ব্যবসায়িক ভ্রমণকারীদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। বিমান সংস্থাগুলির পরিচালন ব্যয়ের প্রায় ৪০ শতাংশই জ্বালানির পেছনে খরচ হয়। ইন্ডিগো জানিয়েছে, পরিস্থিতি প্রতিনিয়ত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং জ্বালানির দাম আরও বাড়লে ভবিষ্যতে ভাড়ার বোঝা আরও বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে।
বর্তমানে সাধারণ মানুষের কাছে আকাশপথের সফর কেবল ব্যয়বহুল নয়, বরং ধরাছোঁয়ার বাইরে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। আন্তর্জাতিক অস্থিরতা ও তেলের বাজার নিয়ন্ত্রণে না এলে বিমান পরিষেবার এই সংকট সহজে কাটবে না বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। সব মিলিয়ে আকাশপথে ভ্রমণের আনন্দ এখন সাধারণ যাত্রীদের জন্য বড় আর্থিক বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে।