বিয়ের আগে ইনস্ট্যান্ট ফিটনেস ও স্টেরয়েডের নেশা ডেকে আনছে চিরস্থায়ী পঙ্গুত্ব

বিয়ের মরশুম সামনে আসতেই এখন তরুণ প্রজন্মের মধ্যে এক অদ্ভুত ফিটনেস উন্মাদনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিয়ের পিঁড়িতে বসার আগে নিজেকে আরও আকর্ষণীয় এবং ছিপছিপে দেখাতে জিম ও ফিটনেস সেন্টারগুলোতে বাড়ছে ভিড়। তবে এই দ্রুত পরিবর্তনের আশায় যুবসমাজ যে ‘শর্টকাট’ পথ বেছে নিচ্ছে, তা তাঁদের শরীরের ওপর মারাত্মক দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলছে বলে সতর্ক করছেন চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা। বিশেষ করে স্টেরয়েড ও বিভিন্ন মেদ কমানোর ওষুধের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার জীবনকে সংকটের মুখে ঠেলে দিচ্ছে।
ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিক্যাল রিসার্চ (আইসিএমআর) এবং একাধিক আন্তর্জাতিক মেডিকেল জার্নালের রিপোর্ট অনুযায়ী, দ্রুত ওজন কমাতে গিয়ে অনেকেই ক্র্যাশ ডায়েট বা কেবল তরল খাবারের ওপর নির্ভর করছেন। এর ফলে শরীরে পুষ্টির অভাব, প্রবল ক্লান্তি ও পেশির খিঁচুনি দেখা দিচ্ছে। দ্রুত ওজন কমলে শরীরের মেটাবলিজম বা বিপাক প্রক্রিয়া ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পর্যাপ্ত বিশেষজ্ঞ পরামর্শ ছাড়া অতিরিক্ত শরীরচর্চা শরীরকে ডিহাইড্রেশন এবং পেশির গুরুতর আঘাতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো মাসল বা পেশি তৈরির জন্য এনাবলিক স্টেরয়েডের যথেচ্ছ ব্যবহার। চিকিৎসকদের মতে, এই ড্রাগগুলো শরীরের প্রাকৃতিক হরমোন ব্যবস্থাকে পুরোপুরি ধ্বংস করে দেয়। এর ফলে পুরুষদের ক্ষেত্রে প্রজনন ক্ষমতা হ্রাস এবং মহিলাদের ক্ষেত্রে গলার স্বর পরিবর্তন বা অস্বাভাবিক লোম হওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিচ্ছে। দীর্ঘকালীন ব্যবহারে লিভার ফেইলিয়র, কিডনি বিকল এবং হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কয়েক গুণ বেড়ে যাচ্ছে।
ওজন কমানোর ওষুধ হিসেবে অনেকেই ওর্লিস্ট্যাট বা খিদে কমানোর ওষুধ ব্যবহার করছেন, যা অনিদ্রা ও উচ্চ রক্তচাপের কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। এমনকি শরীর থেকে জল বের করার জন্য ডায়ইউরেটিক্স জাতীয় ওষুধের অপব্যবহার রক্তচাপ কমিয়ে প্রাণঘাতী পরিস্থিতি তৈরি করছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শারীরিক সক্ষমতার বাইরে গিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা জিম করলে হৃদযন্ত্রের ওপর প্রচণ্ড চাপ পড়ে, যা থেকে বর্তমান সময়ে অল্পবয়সীদের মধ্যে আকস্মিক মৃত্যুর ঘটনা বাড়ছে।
ইন্টারভেনশনাল কার্ডিওলজিস্টদের পরামর্শ অনুযায়ী, ফিটনেসের কোনো বিকল্প বা সংক্ষিপ্ত পথ নেই। সুস্থভাবে নিজেকে তৈরি করতে গেলে সুষম আহার, পর্যাপ্ত ঘুম এবং সঠিক নির্দেশনায় ব্যায়াম করা জরুরি। কৃত্রিম উপায়ে দ্রুত ফল পাওয়ার নেশা আজীবনের জন্য ডায়াবেটিস, হৃদরোগ কিংবা মানসিক অবসাদ উপহার দিতে পারে। তাই বিয়ের খুশির মুহূর্তগুলোকে সারাজীবনের বিষাদে পরিণত না করতে প্রাকৃতিক ও স্বাস্থ্যকর জীবনধারার ওপরই গুরুত্ব দেওয়া উচিত।