বিয়ের আসর থেকে শালিকে নিয়ে চম্পট দিল জামাই

উত্তরপ্রদেশের গোন্ডা জেলায় এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে যা মানবিক সম্পর্কের সমস্ত মর্যাদা ধুলোয় মিশিয়ে দিয়েছে। নিজের স্ত্রীকে পথে বসিয়ে ১৬ বছরের নাবালিকা শালিকে নিয়ে উধাও হয়ে গেল এক গুণধর জামাই। গত ২৪ ফেব্রুয়ারি তরবগঞ্জ থানা এলাকায় একটি বিয়ের অনুষ্ঠানের মাঝেই এই ন্যাক্কারজনক কাণ্ডটি ঘটে।
বিয়ের আনন্দ বদলে গেল বিষাদে
ঘটনাটি ঘটেছে গত ২৪ ফেব্রুয়ারি। দেহাত কোতোয়ালি এলাকার মুন্ডেরওয়া গ্রামের বাসিন্দা রাজেশ কুমার দুবে তার শ্বশুরবাড়িতে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে এসেছিল। চারদিকে তখন সাজ সাজ রব, বরযাত্রী বেরোনোর প্রস্তুতি চলছে। রাজেশও সবার সঙ্গে বরযাত্রীর দলে সামিল হয়। কিন্তু তার মাথায় চলছিল অন্য এক কুটিল পরিকল্পনা। মাঝপথ থেকে কৌশলে ফিরে এসে সে বাড়িতে একা থাকা তার ১৬ বছর বয়সী নাবালিকা শালিকে বাইকে বসিয়ে চম্পট দেয়।
ফোন বন্ধ করে গা ঢাকা
বরযাত্রী নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছানোর পর যখন রাজেশকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না, তখন পরিবারের লোকজন তাকে ফোন করতে শুরু করেন। প্রথমে ফোন ধরলেও পরে সে মোবাইল সুইচ অফ করে দেয়। পরদিন ২৫ ফেব্রুয়ারি বিয়ের অনুষ্ঠান সেরে স্বজনরা বাড়ি ফিরলে আসল সত্য সামনে আসে। দেখা যায় বাড়ির ছোট মেয়েটিও নিখোঁজ। মেয়ের বাবা যখন জামাই রাজেশের বাড়িতে খোঁজ নিতে যান, সেখানে গিয়ে দেখেন রাজেশের স্ত্রী ও দুই সন্তান কান্নায় ভেঙে পড়েছে, কিন্তু অভিযুক্তের কোনো হদিস নেই।
পরিবারের নীরবতা ও পুলিশের পদক্ষেপ
লোক-লজ্জা আর বড় মেয়ের সংসার ভেঙে যাওয়ার ভয়ে নির্যাতিতা কিশোরীর বাবা দুই দিন পর্যন্ত চুপ ছিলেন। নিজের স্তরে খোঁজাখুঁজি করেও যখন কোনো লাভ হয়নি, তখন তিনি পুলিশের দ্বারস্থ হন। শুক্রবার সন্ধ্যায় তরবগঞ্জ থানায় জামাই রাজেশ কুমার দুবের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
পুলিশ এই ঘটনাকে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে দেখছে। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে অপহরণসহ একাধিক ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। নাবালিকা ও অভিযুক্ত জামাইকে উদ্ধারের জন্য পুলিশের বিশেষ টিম গঠন করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, দ্রুত তাদের খুঁজে বের করে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।