বিশ্বযুদ্ধের ডামাডোলের মাঝেই মোদীর মাস্টারস্ট্রোক! চালের বদলে সোনা দিতে রাজি আফ্রিকার দেশ

বিশ্বযুদ্ধের ডামাডোলের মাঝেই মোদীর মাস্টারস্ট্রোক! চালের বদলে সোনা দিতে রাজি আফ্রিকার দেশ

বিশ্ব রাজনীতিতে যখন আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধের দামামা বাজছে, ঠিক সেই মুহূর্তে ভারতের দূরদর্শী কূটনীতি বিশ্বমঞ্চে শোরগোল ফেলে দিয়েছে। খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ আফ্রিকার দেশগুলির সঙ্গে সুসম্পর্ক স্থাপনের মাধ্যমে ভারতের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করার পথে এক ধাপ এগিয়ে গিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এই কৌশলের অংশ হিসেবে সম্প্রতি পশ্চিম আফ্রিকার দেশ বুর্কিনা ফাসোতে ১০ লক্ষ কেজি (১০০০ মেট্রিক টন) চাল পাঠিয়েছে ভারত। এই মানবিক সাহায্য কেবল বন্ধুত্বের খাতিরে নয়, বরং দেশের অর্থনীতির মজবুত ভিত গড়ার লক্ষ্যেই করা হয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

বুর্কিনা ফাসোর বর্তমান প্রেসিডেন্ট ৩৭ বছর বয়সী ইব্রাহিম ত্রাওরে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত। এই পরিস্থিতিতে ভারত এই দেশটির পাশে দাঁড়ানোয় আন্তর্জাতিক মহলে বিশেষ কৌতূহল তৈরি হয়েছে। আসলে বর্তমান ও ভবিষ্যতের জ্বালানি ও খনিজ সম্পদের চাহিদা মেটাতে ভারত এখন আফ্রিকা মহাদেশের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। দীর্ঘ সময় ধরে পশ্চিমা দেশগুলোর কাছ থেকে অবহেলিত থাকা আফ্রিকাকে ভারত প্রকৃত সম্মান দিয়েছে, যার বড় প্রমাণ জি-২০ গোষ্ঠীতে আফ্রিকান ইউনিয়নকে স্থায়ী সদস্যপদ লাভে ভারতের অগ্রণী ভূমিকা।

বুর্কিনা ফাসো বর্তমানে তীব্র অর্থনৈতিক সংকট ও প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের মোকাবিলা করছে। তবে প্রতিকূলতা সত্ত্বেও দেশটি খনিজ সম্পদে অত্যন্ত সমৃদ্ধ এবং আফ্রিকার চতুর্থ বৃহত্তম সোনা উৎপাদনকারী দেশ। ভারত মানবিকতার খাতিরে যে বিপুল পরিমাণ চাল পাঠিয়েছে, তার বিনিময়ে বুর্কিনা ফাসো ভারতকে সাশ্রয়ী মূল্যে বড় অঙ্কের সোনা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতার জেরে বিশ্ববাজারে সোনার দাম যখন আকাশছোঁয়া, তখন এই চুক্তি ভারতের অভ্যন্তরীণ বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে বড় ভূমিকা নেবে।

কূটনৈতিক এই সমীকরণ কেবল বুর্কিনা ফাসোতেই সীমাবদ্ধ নয়। গত কয়েক দিনে ভারত সিয়েরা লিওনের মতো অপর এক আফ্রিকান দেশেও সমপরিমাণ চাল পাঠিয়েছে। উল্লেখ্য, সিয়েরা লিওন বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ হীরা উৎপাদনকারী দেশ। ভারতের সুরাট বিশ্বের হীরা পালিশ ও রপ্তানির প্রধান কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। ফলে সিয়েরা লিওনের সঙ্গে এই সুসম্পর্ক ভারতের হীরা শিল্পের জন্য কাঁচামালের নিরবচ্ছিন্ন জোগান নিশ্চিত করবে। এর আগে হরমোজ প্রণালীতে উত্তেজনার সময় আঙ্গোলা ও নাইজেরিয়ার মতো দেশগুলি ভারতকে জ্বালানি তেল সরবরাহ করে সাহায্য করেছিল।

ভারতের এই ‘চাল কূটনীতি’ আসলে এক সুগভীর অর্থনৈতিক পরিকল্পনার অংশ। একদিকে যেমন খাদ্য সংকটে থাকা দেশগুলোর পাশে দাঁড়িয়ে ভারত বিশ্বমঞ্চে নিজের বিশ্বাসযোগ্যতা প্রমাণ করছে, অন্যদিকে বিনিময়ে সোনা ও হীরার মতো মূল্যবান সম্পদের জোগান নিশ্চিত করছে। রাশিয়ার সঙ্গে বন্ধুত্বের পাশাপাশি আফ্রিকার উন্নয়নশীল দেশগুলিকে সঙ্গে নিয়ে মোদীর এই এগিয়ে যাওয়ার কৌশল কার্যত পশ্চিমা দেশগুলিকে বড়সড় বার্তা দিয়েছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও ভূ-রাজনীতিতে ভারতের অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *