বিশ্বে প্রতি চারজনে একজন স্ট্রোকে আক্রান্ত, জীবনযাপনে বদলই বাঁচার পথ

বিশ্বে প্রতি চারজনে একজন স্ট্রোকে আক্রান্ত, জীবনযাপনে বদলই বাঁচার পথ

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও ওয়ার্ল্ড স্ট্রোক অর্গানাইজেশনের সাম্প্রতিক সমীক্ষা অনুযায়ী, বিশ্বের প্রতি চারজন প্রাপ্তবয়স্কের মধ্যে একজন স্ট্রোকে আক্রান্ত হচ্ছেন। মস্তিষ্কের ধমনীতে রক্ত চলাচল বাধাগ্রস্ত হয়ে অক্সিজেনের অভাব ঘটলে এই সংকট তৈরি হয়। হাত-পা অবশ হওয়া, কথা জড়িয়ে যাওয়া বা মুখ বেঁকে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। চিকিৎসকদের মতে, স্ট্রোকের প্রথম এক ঘণ্টা বা ‘গোল্ডেন আওয়ার’-এর মধ্যে চিকিৎসা শুরু করলে রোগীর প্রাণরক্ষা ও সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি থাকে।

অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপনই স্ট্রোকের অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। উচ্চ রক্তচাপ স্ট্রোকের ঝুঁকি প্রায় ৫০ শতাংশ বাড়িয়ে দেয়। এছাড়া অতিরিক্ত কোলেস্টেরল, স্থূলতা, ডায়াবেটিস এবং মানসিক উদ্বেগের কারণেও এই রোগ হতে পারে। ভাজাপোড়া বা ফাস্ট ফুড খাওয়ার প্রবণতা এবং ধূমপান ও মদ্যপানের মতো অভ্যাস মস্তিষ্কের রক্তবাহী নালিকাগুলোর মারাত্মক ক্ষতি করে, যা পরবর্তীকালে সাইলেন্ট স্ট্রোক বা স্থায়ী স্নায়বিক সমস্যার ঝুঁকি বাড়ায়।

স্ট্রোক প্রতিরোধে শরীর ও মনে সক্রিয় থাকা এবং খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আনা অপরিহার্য। পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং হার্টের যত্ন নিলে এই ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, স্ট্রোকের জন্য দায়ী প্রধান ১০টি কারণই সচেতনতার মাধ্যমে প্রতিরোধযোগ্য। সঠিক সময়ে জীবনযাত্রায় নিয়ন্ত্রণ আনলে এবং শরীরচর্চাকে গুরুত্ব দিলে অকাল মৃত্যু ও পক্ষাঘাতের হাত থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। সুস্থ থাকতে নিয়মমাফিক জীবনযাপনের বিকল্প নেই।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *