বিশ্ব রেকর্ড ভাঙল ইরান, ৪৫ দিনের ‘ডিজিটাল অন্ধকারে’ স্তব্ধ জনজীবন!

ইরানে ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঘটনা এখন পঞ্চম সপ্তাহে গড়িয়েছে। যা বর্তমানে বিশ্বের দীর্ঘতম দেশব্যাপী ইন্টারনেট শটডাউনের নতুন রেকর্ড সৃষ্টি করেছে। আন্তর্জাতিক ইন্টারনেট পর্যবেক্ষণ সংস্থা নেটব্লকসের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই অচলাবস্থা ৪৪ দিন পেরিয়ে ৪৫তম দিনে পদার্পণ করেছে। একটি আধুনিক ও সংযুক্ত সমাজের ওপর এই দীর্ঘমেয়াদি সেন্সরশিপের মানবিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব এখন চরম আকার ধারণ করেছে।
রেকর্ড ভাঙা শটডাউনের নেপথ্যে
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান সরকার প্রথম বৈশ্বিক ইন্টারনেট থেকে দেশের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়। এর আগে মিয়ানমার বা সুদানের মতো দেশগুলোতে নির্দিষ্ট অঞ্চলভিত্তিক বা মাঝে মাঝে ইন্টারনেট বন্ধের নজির থাকলেও, ইরানের মতো একটি দেশ যারা আগে থেকেই উন্নত কানেক্টিভিটির অধিকারী ছিল, তাদের ক্ষেত্রে এমন দীর্ঘস্থায়ী সম্পূর্ণ শটডাউন নজিরবিহীন। উত্তর কোরিয়া ঐতিহাসিকভাবেই বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন, কিন্তু ইরান বৈশ্বিক নেটওয়ার্কের সাথে যুক্ত থাকার পর জাতীয় নেটওয়ার্কে ফিরে যাওয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক যোগাযোগ হারিয়েছে।
যুদ্ধ পরিস্থিতি ও কঠোর নিয়ন্ত্রণ
ইসরায়েল এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সাম্প্রতিক সামরিক উত্তজনা শুরু হওয়ার পর থেকেই মূলত এই ব্ল্যাকআউট কার্যকর করা হয়। গত পাঁচ সপ্তাহ ধরে চলা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার পাল্টাপাল্টি উত্তেজনার মাঝে তেহরান এই সিদ্ধান্ত নেয়। শুধু সাধারণ ইন্টারনেট নয়, ইরানি কর্তৃপক্ষ স্যাটেলাইট সংযোগ এবং ভার্চুয়াল প্রাইভেট নেটওয়ার্ক বা ভিপিএনের ওপরও কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে। ফলে নাগরিকদের কাছে যোগাযোগের আর কোনো বিকল্প মাধ্যম অবশিষ্ট নেই।
মানবিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব বিশ্লেষণ
দীর্ঘদিনের এই ডিজিটাল বিচ্ছিন্নতা ইরানের অভ্যন্তরে গভীর সংকট তৈরি করেছে। নেটব্লকসের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী:
- বিচ্ছিন্ন পরিবার: যুদ্ধের এই ভয়াবহ সময়ে সাধারণ মানুষ তাদের প্রিয়জনদের সাথে যোগাযোগ করতে পারছে না, যা চরম মানবিক সংকট তৈরি করছে।
- অর্থনৈতিক বিপর্যয়: আধুনিক ব্যবসা-বাণিজ্য ও ডিজিটাল লেনদেন সম্পূর্ণ বন্ধ থাকায় অর্থনৈতিক কাঠামো ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে।
- তথ্য সেন্সরশিপ: বিকল্প সব পথ বন্ধ করে দেওয়ায় বহির্বিশ্ব থেকে ইরান কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে, যা দেশটিকে উত্তর কোরিয়ার মতো আইসোলেশনের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
ইউক্রেন বা গাজার মতো যুদ্ধবিধ্বস্ত এলাকাগুলোতে অবকাঠামোগত ক্ষতির কারণে ইন্টারনেট সংযোগ ব্যাহত হওয়ার নজির থাকলেও, ইরানের ক্ষেত্রে এটি রাষ্ট্রীয়ভাবে চাপিয়ে দেওয়া একটি সুপরিকল্পিত দীর্ঘমেয়াদি সেন্সরশিপ।
একঝলকে
- শুরু: ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানে ইন্টারনেট বন্ধ।
- সময়কাল: ৪৫ দিনে পদার্পণ করে বিশ্ব রেকর্ড সৃষ্টি।
- মূল কারণ: যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাথে চলমান সামরিক সংঘাত।
- বর্তমান অবস্থা: স্যাটেলাইট এবং ভিপিএন সংযোগও সরকারি নিয়ন্ত্রণে।
- প্রভাব: যোগাযোগহীনতায় চরম মানবিক ও অর্থনৈতিক সংকট।