বিসিবিতে চরম অস্থিরতা পদত্যাগ করলেন ৭ পরিচালক তবে অনড় আমিনুল ইসলাম

বাংলাদেশে ক্ষমতার পালাবদলের পর থেকেই তোলপাড় চলছে দেশের ক্রিকেট নিয়ামক সংস্থা বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডে (বিসিবি)। দীর্ঘ টালবাহানার পর শেষ পর্যন্ত বোর্ডের ২৫ জন পরিচালকের মধ্যে ৭ জন তাদের পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। শনিবার বোর্ডের একটি গুরুত্বপূর্ণ সভার পর চারজন পরিচালক একসাথে পদত্যাগপত্র জমা দেন, যা বিসিবির অভ্যন্তরীণ সংকটকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে। তবে এই গণ-পদত্যাগের মুখেও নিজের অবস্থানে অনড় রয়েছেন বোর্ড সভাপতি আমিনুল ইসলাম।
বর্তমান সভাপতির মেয়াদে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বাংলাদেশের অবস্থান ও সম্পর্ক নিয়ে নানা বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে প্রতিবেশী দেশ ভারতের ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ড বা বিসিসিআই-এর সাথে সম্পর্কের চরম অবনতি লক্ষ্য করা গেছে। আমিনুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন বোর্ডের অনমনীয় অবস্থানের কারণে ২০২৫ সালে ভারতের প্রস্তাবিত বাংলাদেশ সফর বাতিল হয় এবং এমনকি ২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকেও বাংলাদেশ নাম প্রত্যাহার করে নেয়। বিসিবির নতুন নীতিনির্ধারকরা যখন ভারতের সাথে সম্পর্ক উন্নয়নের পথে হাঁটতে চাইছেন, তখন আমিনুল ইসলামের পদত্যাগে অনীহা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
এক সাক্ষাৎকারে বিসিবি সভাপতি সাফ জানিয়েছেন, তিনি এই মুহূর্তে কোনোভাবেই পদত্যাগ করবেন না। আমিনুলের দাবি, তার অধীনে একটি অত্যন্ত সৎ এবং নিবেদিতপ্রাণ দল কাজ করছে। তিনি নিজেকে আইসিসির অভিজ্ঞতা সম্পন্ন একমাত্র বাংলাদেশি হিসেবে দাবি করে বলেন যে, যোগ্যতার ভিত্তিতেই তিনি এই পদে আসীন হয়েছেন। দেশের ক্রিকেটের স্বার্থে তিনি নিজের অনেক সুযোগ বিসর্জন দিয়েছেন এবং পরিস্থিতি যাই হোক না কেন, তিনি সবার শেষেই বোর্ড ছাড়বেন বলে নিজের জেদ বজায় রেখেছেন।
তবে বিসিবি সভাপতি অভিযোগ করেছেন যে, বাইরের শক্তির হস্তক্ষেপের কারণে ক্রিকেট বোর্ড স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছে না। তিনি কোনো দেশের নাম সরাসরি উল্লেখ না করলেও ‘বহিরাগত শক্তি’ শব্দবন্ধটি ব্যবহার করে পরোক্ষভাবে ভারতকেই নিশানা করেছেন বলে ক্রীড়া বিশ্লেষকদের ধারণা। আমিনুলের মতে, এই অপশক্তির কারণেই বাংলাদেশের ক্রিকেটের অগ্রগতি থমকে গেছে। ভারতের প্রতি বিরূপ মনোভাব এবং বিতর্কিত মন্তব্যের কারণে তার কার্যকাল শুরু থেকেই সংবাদ শিরোনামে থেকেছে।
একটি বিশেষ কমিটির সামনে উপস্থিত হওয়ার কথা থাকলেও অজ্ঞাত কারণে আমিনুল ইসলাম সেখানে হাজিরা দেননি। বরং তিনি সংবাদমাধ্যমে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে জানিয়েছেন যে, তিনি সহজে ময়দান ছাড়ছেন না। একদিকে বিসিবির সংস্কারের দাবি এবং অন্যদিকে সভাপতির অনমনীয় মনোভাব—সব মিলিয়ে বাংলাদেশের ক্রিকেট প্রশাসন এখন এক গভীর অনিশ্চয়তার মুখে দাঁড়িয়ে। এখন দেখার বিষয়, আইসিসির নিয়মাবলী মেনে বিসিবি এই অচলাবস্থা কাটিয়ে কীভাবে ক্রিকেটের স্বাভাবিক ছন্দ ফিরিয়ে আনে।