বিহারে নারী সুরক্ষায় বড় প্রশ্নচিহ্ন তুলে গণধর্ষণ ও পাশবিক অত্যাচারের জোড়া ঘটনায় তোলপাড় দেশ

বিহারজুড়ে নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। রাজ্যের পূর্ণিয়া ও পাটনা জেলায় ঘটা দুটি পৃথক পাশবিক ঘটনা জনমানসে তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার করেছে। একটি ঘটনায় নাবালিকাকে অপহরণ করে গণধর্ষণ এবং অন্যটিতে মাত্র তিন বছরের এক শিশুকে নিজের কাকার লালসার শিকার হতে হয়েছে। এই নারকীয় ঘটনাপ্রবাহে পুলিশের ভূমিকা এবং সামাজিক অবক্ষয় নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।
পূর্ণিয়া জেলার সিকতি থানা এলাকায় প্রথম ঘটনাটি ঘটে গত ২৫ মার্চ। স্থানীয় একটি আধ্যাত্মিক অনুষ্ঠানে পরিবারের সঙ্গে যোগ দিতে গিয়েছিল এক নাবালিকা। সন্ধ্যায় সে একা বাইরে বের হলে চার যুবক তার মুখ চেপে ধরে পাশের একটি ভুট্টা ক্ষেতে তুলে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে পাশবিকভাবে গণধর্ষণ করা হয়। শুধু তাই নয়, নৃশংসতার চরম সীমা ছাড়িয়ে অভিযুক্তরা গোটা ঘটনার ভিডিও চিত্র ধারণ করে। বিষয়টি কাউকে জানালে সেই ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়। কয়েক দিন ভয়ে চুপ থাকার পর নাবালিকা তার মাকে সব জানালে পুলিশ পকসো (POCSO) আইনে মামলা দায়ের করে তল্লাশি শুরু করেছে।
অন্যদিকে, রাজধানী পাটনার পারসা বাজার এলাকায় খোদ কাকার হাতেই লাঞ্ছিত হতে হয়েছে তিন বছরের এক শিশুকে। শুক্রবার রাতে যখন শিশুটি অঘোরে ঘুমাচ্ছিল, তখন তার মদ্যপ কাকা তাকে তুলে নিয়ে যায়। বাড়ি থেকে প্রায় ৫০০ মিটার দূরে নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে নিজের বন্ধুদের সঙ্গে মিলে ওই শিশুটির ওপর যৌন নির্যাতন চালায় সে। শিশুটির আর্তনাদ শুনে এক গ্রামবাসী চোর সন্দেহে চিৎকার শুরু করলে অভিযুক্তরা পালিয়ে যায়। রক্তাক্ত অবস্থায় শিশুটিকে উদ্ধার করে পাটনা এইমসে (AIIMS) ভর্তি করা হয়েছে, সেখানে তার অবস্থা বর্তমানে আশঙ্কাজনক।
পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে মূল অভিযুক্ত কাকা ও তার এক বন্ধুকে গ্রেপ্তার করেছে। পলাতক অন্য সহযোগীদের সন্ধানে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। একই সময়ে রাজ্যে ঘটা এই দুটি অমানবিক ঘটনা প্রশাসনের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। সাধারণ মানুষ ও নির্যাতিতার পরিবার অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সরব হয়েছেন। বিহারের আইনশৃঙ্খলা এবং শিশুদের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কঠোর ব্যবস্থার দাবি উঠেছে সব মহল থেকে।