বীরভূমে উত্তপ্ত ভোটের প্রচার, তৃণমূলের বিক্ষোভে জেরবার বিজেপি প্রার্থী অনুপ সাহা

বীরভূমের দুবরাজপুরে নির্বাচনী প্রচারে বেরিয়ে নজিরবিহীন হেনস্থার মুখে পড়লেন স্থানীয় বিজেপি প্রার্থী অনুপ সাহা। অভিযোগ উঠেছে এলাকার তৃণমূল কংগ্রেস আশ্রিত নেতা ও কর্মীদের বিরুদ্ধে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংশ্লিষ্ট এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। প্রচারের শুরুতেই প্রার্থীর গতিপথ আটকে বিক্ষোভ দেখানো হয় বলে জানা গেছে।
দুবরাজপুরের বিদায়ী বিধায়ক অনুপ সাহা এদিন দলীয় কর্মীদের নিয়ে জনসংযোগে বেরিয়েছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, প্রচার চলাকালীন তৃণমূল কর্মীরা তাঁকে ঘিরে ধরে বিক্ষোভ শুরু করেন। পরিস্থিতি ক্রমশ ঘোরালো হয়ে উঠলে দু’পক্ষের মধ্যে বাদানুবাদ শুরু হয়। তৃণমূলের পক্ষ থেকে গত পাঁচ বছরের উন্নয়নমূলক কাজের খতিয়ান চেয়ে স্লোগান দেওয়া হতে থাকে।
তৃণমূলের অভিযোগ, বিধায়ক হিসেবে গত পাঁচ বছরে এলাকায় কোনও দৃশ্যত উন্নয়ন করেননি অনুপ সাহা। সেই ক্ষোভ থেকেই স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁর কাছে কাজের হিসেব চেয়েছেন। তবে বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, এটি সম্পূর্ণ পরিকল্পিত রাজনৈতিক হামলা। পরাজয়ের ভয়ে তৃণমূল কর্মীরা কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বেষ্টিত প্রার্থীর পথ আটকে গণতান্ত্রিক অধিকার খর্ব করার চেষ্টা করছে।
উত্তপ্ত পরিস্থিতির মাঝেই মেজাজ হারান দু’পক্ষের কর্মীরা। বিজেপি প্রার্থীর সঙ্গে থাকা কেন্দ্রীয় নিরাপত্তারক্ষীরা দ্রুত সক্রিয় হয়ে ওঠেন। বিক্ষোভকারীদের ভিড় ঠেলে তাঁরা কোনওমতে প্রার্থী অনুপ সাহাকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যেতে সক্ষম হন। এই ধস্তাধস্তিতে এলাকায় দীর্ঘক্ষণ যান চলাচল ব্যাহত হয় এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
নির্বাচন কমিশন এই ঘটনার খবর পাওয়ার পর স্থানীয় প্রশাসনের কাছে রিপোর্ট তলব করেছে। বিজেপি প্রার্থী এই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট থানায় এবং নির্বাচন কমিশনে লিখিত অভিযোগ দায়ের করার প্রক্রিয়া শুরু করেছেন। অন্যদিকে, তৃণমূল নেতৃত্ব এই অভিযোগ অস্বীকার করে একে সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিবাদ হিসেবেই দেখছে।
ভোটের আগে বীরভূমের মাটিতে এই রাজনৈতিক সংঘাত নতুন করে উত্তাপ বাড়িয়ে দিল। দুবরাজপুর জুড়ে মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রচারের শুরুতেই এই ধরনের বিবাদ আগামী দিনের হাইভোল্টেজ লড়াইয়ের আগাম ইঙ্গিত দিচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সজাগ রয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।