বেকারত্ব ঘোচাবে এআই! ভারতে ডেলয়েট নিয়ে এল ৫০ হাজার চাকরি

বেকারত্ব ঘোচাবে এআই! ভারতে ডেলয়েট নিয়ে এল ৫০ হাজার চাকরি

বিশ্বজুড়ে যখন একের পর এক বহুজাতিক সংস্থা থেকে কর্মী ছাঁটাইয়ের খবর আসছে, ঠিক তখনই ভারতীয় চাকরির বাজারে বড়সড় আশার আলো দেখাল মার্কিন অডিট সংস্থা ডেলয়েট। দীর্ঘ দিন ধরে ভারতে ব্যবসা করা এই সংস্থাটি তাদের কর্মক্ষমতা এবং ব্যবসার পরিধি আরও বৃদ্ধির লক্ষ্যে আগামী দিনে প্রায় ৫০ হাজার নতুন পেশাদার কর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-কে হাতিয়ার করেই এই বিপুল কর্মসংস্থানের পথে হাঁটছে সংস্থাটি।

সাধারণত মনে করা হয়, এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার বাড়লে মানুষের কর্মসংস্থান সঙ্কুচিত হবে। তবে ডেলয়েট সেই ধারণার সম্পূর্ণ বিপরীতে গিয়ে প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে ব্যবসায়িক সাফল্যের কৌশল নিয়েছে। সংস্থার লক্ষ্য হলো প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ বৃদ্ধির মাধ্যমে ভবিষ্যতে আরও জটিল ও চ্যালেঞ্জিং কাজ অনায়াসে মোকাবিলা করা। সেই উদ্দেশ্য সফল করতেই ভারত থেকে নতুন প্রজন্মের দক্ষ কর্মীদের বেছে নিতে চায় তারা।

ডেলয়েটের দক্ষিণ এশিয়ার চিফ অপারেটিং অফিসার (সিওও) নিতিন কিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, এই নিয়োগের লক্ষ্য মোটেই কর্মী ছাঁটাই নয়, বরং কর্মদক্ষতা বা সক্ষমতা বাড়ানো। বর্তমানে প্রযুক্তির যে দ্রুত পরিবর্তন ঘটছে, তার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কর্মীদের তৈরি করাকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছে সংস্থা। তিনি মনে করেন, আধুনিক প্রযুক্তির প্রভাবে কর্মীর সংখ্যা কমানোর চেয়ে বিদ্যমান কর্মীদের ডিজিটাল ক্ষমতায়ন বেশি জরুরি।

সংস্থাটি ইতিমধ্যে তাদের অভ্যন্তরীণ পরিকাঠামোয় বড় পরিবর্তন এনেছে। জানা গিয়েছে, তারা ইতিমধ্যেই প্রায় ৩০ হাজার বর্তমান কর্মীকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সংক্রান্ত বিশেষ প্রশিক্ষণ প্রদান করেছে। ডেলয়েটের নীতি অনুযায়ী, শুধুমাত্র বাইরে থেকে নতুন কর্মী নিয়োগ করাই নয়, বরং সংস্থার অভ্যন্তরে থাকা প্রতিভাদের সঠিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আগামীর জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে। এই দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগই সংস্থার মূল চালিকাশক্তি।

আর্থিক বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও ডেলয়েট নজিরবিহীন পদক্ষেপ নিয়েছে। তাদের মোট বার্ষিক রাজস্বের প্রায় ৯ শতাংশ ব্যয় করা হচ্ছে কর্মীদের প্রশিক্ষণ এবং নতুন নতুন উদ্ভাবনীমূলক কাজের পিছনে। ভারত সরকারের ডিজিটাল ইন্ডিয়া এবং এআই বিপ্লবের আবহে ডেলয়েটের এই বিশাল নিয়োগ পরিকল্পনা দেশের তরুণ প্রজন্মের কাছে এক অনন্য সুযোগ হয়ে উঠবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *