বোর্ডিং স্কুলে শিশুকে নৃশংস হত্যায় উত্তাল জাহানাবাদ গ্রেপ্তার স্কুলের প্রিন্সিপাল

বিহারের জাহানাবাদে এক মর্মান্তিক ও নৃশংস ঘটনার সাক্ষী থাকল এলাকা। একটি বেসরকারি বোর্ডিং স্কুলে এক শিশুকে পৈশাচিক কায়দায় হত্যার অভিযোগ উঠেছে। পাটনা থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তা ও নৈতিকতা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠে গেল। মৃত শিশুর নাম আশু শর্মা। এই ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে স্কুলের প্রিন্সিপাল তরুণ কুমারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
ঘটনার প্রেক্ষাপট ও ভয়াবহতা
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ১ এপ্রিল আশু শর্মাকে ওই বোর্ডিং স্কুলে ভর্তি করা হয়েছিল। ভর্তির মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ৬ এপ্রিল শিশুটির বাবা অজয় শর্মার কাছে স্কুল থেকে ফোন যায়। জানানো হয়, তার ছেলে গুরুতর অসুস্থ এবং হাসপাতালে ভর্তি। তড়িঘড়ি হাসপাতালে পৌঁছে পরিবারের সদস্যরা যে দৃশ্য দেখেন, তা শিউরে ওঠার মতো। শিশুটির শরীরে ধারাল অস্ত্রের আঘাত ছিল এবং তার যৌনাঙ্গ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় পাওয়া যায়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাসপাতালেই মৃত্যু হয় আশুর।
অভিযোগের আঙুল প্রিন্সিপালের দিকে
এই ঘটনায় সরাসরি স্কুলের প্রিন্সিপাল তরুণ কুমারের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছে শিশুটির পরিবার। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে উঠে এসেছে মৃত শিশুর বড় ভাই রিশুর নাম, যে ওই একই হস্টেলে ছিল। রিশুর বয়ান অনুযায়ী, ঘটনার রাতে প্রিন্সিপাল তরুণ কুমার আশুকে নিজের ঘরে শুতে নিয়ে গিয়েছিলেন। তার পরের দিন সকালেই আশুকে রক্তাক্ত ও গুরুতর জখম অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পরিবারের অভিযোগ, যৌন নির্যাতনের পর অত্যন্ত নৃশংসভাবে খুন করা হয়েছে শিশুটিকে।
পুলিশের পদক্ষেপ ও জনরোষ
ঘটনার জানাজানি হতেই এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ক্ষুব্ধ জনতা দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবিতে পাটনা-গয়া সড়ক দীর্ঘক্ষণ অবরোধ করে রাখেন। পুলিশ দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং অভিযুক্ত প্রিন্সিপাল তরুণ কুমারকে গ্রেপ্তার করে। তার বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ধর্ষণ ও খুনের ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে উঠে আসছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য।
সম্ভাব্য প্রভাব ও নিরাপত্তা প্রশ্ন
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যেখানে শিশুদের নিরাপত্তা সবচেয়ে বড় বিষয়, সেখানে এই ধরনের ঘটনা অভিভাবক মহলে আতঙ্ক তৈরি করেছে। বোর্ডিং স্কুলগুলোর নজরদারি এবং কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে আইনি শিথিলতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তদন্ত প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করে কঠোর সাজার ব্যবস্থা করা হবে।