বোলপুরে মোদির নির্বাচনী সভা থাকলেও ব্রাত্য বিশ্বভারতীর সমাবর্তন তুঙ্গে ক্ষোভ

বীরভূমের সিউড়িতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নির্বাচনী জনসভাকে কেন্দ্র করে বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্দরে দানা বেঁধেছে তীব্র বিতর্ক। বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য হওয়া সত্ত্বেও সমাবর্তন অনুষ্ঠান এড়িয়ে মোদির রাজনৈতিক প্রচারকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন পড়ুয়া ও প্রাক্তনীদের একাংশ।
রাজনৈতিক ব্যস্ততায় অনিশ্চিত সমাবর্তন
বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য হলো বার্ষিক সমাবর্তন। সাধারণত ফেব্রুয়ারি বা মার্চ মাসে এই অনুষ্ঠান হওয়ার কথা থাকলেও এপ্রিলের মাঝামাঝি পর্যন্ত কোনো দিনক্ষণ ঘোষণা করা হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়াদের অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রী বীরভূমে নির্বাচনী প্রচারের জন্য সময় বের করতে পারলেও নিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনের জন্য সময় দিতে পারছেন না। ফলে হাজার হাজার শিক্ষার্থীর ডিগ্রি প্রাপ্তি ও ভবিষ্যৎ শংসাপত্র নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
প্রশাসনের অবস্থান ও প্রস্তুতির অভাব
বিশ্বভারতী সূত্রে খবর, ২০১৮ সালে মোদি, শেখ হাসিনা ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতিতে হওয়া সমাবর্তনটি ছিল স্মরণীয়। এরপর দীর্ঘ সময় স্থায়ী উপাচার্য না থাকায় এই প্রক্রিয়ায় ব্যাঘাত ঘটে। নতুন উপাচার্য প্রবীরকুমার ঘোষ দায়িত্ব নেওয়ার পর আম্রকুঞ্জে সমাবর্তন আয়োজনের পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে প্রধানমন্ত্রী বা রাষ্ট্রপতির সচিবালয় থেকে সবুজ সংকেত না আসায় পুরো বিষয়টি ঝুলে রয়েছে। ভারপ্রাপ্ত জনসংযোগ আধিকারিক অতিগ ঘোষের মতে, রাজনৈতিক সভা ও সমাবর্তন দুটি ভিন্ন বিষয়। সমাবর্তনের প্রস্তুতি থাকলেও তা প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল।
ছাত্র সংগঠন ও পড়ুয়াদের বিশ্লেষণাত্মক প্রতিক্রিয়া
বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন এই পরিস্থিতিকে শিক্ষা বনাম রাজনীতির সংঘাত হিসেবে দেখছে। তাদের অভিযোগের মূল পয়েন্টগুলো হলো:
- প্রতিবাদের আশঙ্কা: তৃণমূল ছাত্র পরিষদের দাবি, ছাত্রছাত্রীদের প্রতিবাদের ভয়েই হয়তো আচার্য সমাবর্তন এড়িয়ে চলছেন।
- সংস্কৃতির অবক্ষয়: এসএফআইয়ের মতে, বিশ্বভারতীর ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতি ও গুরুত্ব বর্তমান আচার্যের কাছে প্রাধান্য পাচ্ছে না।
- শংসাপত্র সংকট: নির্দিষ্ট সময়ে সমাবর্তন না হওয়ায় উত্তীর্ণ ছাত্রছাত্রীরা উচ্চশিক্ষা বা চাকরির ক্ষেত্রে শংসাপত্র পেতে সমস্যায় পড়ছেন।
ইতিমধ্যেই অনেক পড়ুয়া সমাবর্তনে যোগ দেওয়ার জন্য আবেদনপত্র জমা দিলেও অনিশ্চয়তার কারণে হতাশ হয়ে পড়েছেন। বিধানসভা নির্বাচনের আবহে এই বিতর্ক নতুন মাত্রা যোগ করেছে বীরভূমের রাজনীতিতে।