ব্যাংকের লকারে সোনা রাখলে কি ইনকাম ট্যাক্স দিতে হয়? আয়কর দপ্তরের কড়া নিয়ম জেনে নিন

নিউজ ডেস্ক
ভারতে সোনা কেবল গয়না নয়, বরং একটি বড় বিনিয়োগ এবং নিরাপত্তার প্রতীক। অনেকেই কষ্টার্জিত টাকায় সোনা কিনে সুরক্ষার জন্য ব্যাংকের লকারে রাখেন। কিন্তু প্রশ্ন হলো, লকারে রাখা সোনার ওপর কি আয়কর দিতে হয়?
আয়করের আসল নিয়ম
সরাসরি বলতে গেলে, লকারে সোনা ‘রাখার’ জন্য আলাদা কোনো ট্যাক্স লাগে না। তবে সেই সোনার উৎস কী এবং আপনার ঘোষিত আয়ের সঙ্গে তার সামঞ্জস্য আছে কি না, সেটাই আসল বিষয়। আয়কর দপ্তরের তদন্তে লকারে থাকা সোনার সঠিক উৎস বা ক্রয়ের রসিদ দেখাতে পারলে ভয়ের কিছু নেই। এমনকি উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া সোনার ক্ষেত্রেও উপযুক্ত প্রমাণ থাকা জরুরি।
কতটা সোনা রাখা বৈধ?
সেন্ট্রাল বোর্ড অফ ডাইরেক্ট ট্যাক্সেস (CBDT)-এর নিয়ম অনুযায়ী, নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত সোনার গয়না রাখলে কোনো আয়ের প্রমাণ বা ইনভয়েস লাগে না:
- বিবাহিত মহিলা: ৫০০ গ্রাম পর্যন্ত।
- অবিবাহিত মহিলা: ২৫০ গ্রাম পর্যন্ত।
- পুরুষ: ১০০ গ্রাম পর্যন্ত।
এই সীমার বেশি সোনা থাকলে এবং তার বৈধ বিল না দেখাতে পারলে সেটিকে ‘অঘোষিত সম্পত্তি’ হিসেবে গণ্য করা হতে পারে। সেক্ষেত্রে মোটা অঙ্কের কর ও জরিমানা হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
সোনা বিক্রির ক্ষেত্রে ট্যাক্স
লকারে সোনা রাখলে ট্যাক্স না লাগলেও তা বিক্রির সময় ‘ক্যাপিটাল গেইনস ট্যাক্স’ দিতে হয়। তিন বছরের বেশি সময় সোনা ধরে রেখে বিক্রি করলে ‘লং টার্ম ক্যাপিটাল গেইনস’ (LTCG) ট্যাক্স প্রযোজ্য হয়। আর তিন বছরের আগে বিক্রি করলে তা ‘শর্ট টার্ম ক্যাপিটাল গেইনস’ (STCG) হিসেবে আপনার ইনকাম স্ল্যাব অনুযায়ী করযোগ্য হবে।
পরামর্শ
নিরাপদ থাকতে সোনা কেনার প্রতিটি পাকা বিল যত্ন করে রাখুন। প্রয়োজনে পুরনো গয়নার সঠিক মূল্যায়ন (Valuation Report) করিয়ে রাখা এবং আয়কর রিটার্নে (ITR) সম্পদের সঠিক তথ্য দেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ।