ব্যাঙ্কে কোটি কোটি টাকা ও একাধিক মামলা, কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্রের সম্পত্তির খতিয়ান প্রকাশ্যে

নির্বাচনী হলফনামা ঘিরে সাধারণ মানুষের কৌতূহল সব সময়ই তুঙ্গে থাকে। সম্প্রতি কামারহাটির তৃণমূল বিধায়ক মদন মিত্রের সম্পত্তির খতিয়ান প্রকাশ্যে আসতেই তা নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষের হলফনামা অনুযায়ী, মদন মিত্রের আয়ের গ্রাফ উল্লেখযোগ্যভাবে ঊর্ধ্বমুখী। গত অর্থবর্ষে তাঁর বার্ষিক আয় ছিল ৬ লক্ষ ৫৮ হাজার ১৯০ টাকা, যা বর্তমান অর্থবর্ষে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১ লক্ষ ৬২ হাজার ৭৯০ টাকা। অর্থাৎ এক বছরেই তাঁর আয় প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। মনোনয়ন পেশের সময় বিধায়কের হাতে নগদ ছিল ৪৫ হাজার ৫০০ টাকা।
বিধায়কের মোট অস্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ ১ কোটি ৬৮ লক্ষ ৫৬ হাজার ৮৪৬ টাকা। এর মধ্যে বিভিন্ন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট এবং স্থায়ী আমানত মিলিয়ে জমার পরিমাণ ১ কোটি ১১ লক্ষ ৯ হাজার ৫৫০ টাকা। বিলাসবহুল জীবনযাত্রার পাশাপাশি তাঁর একটি গাড়ি রয়েছে যার বর্তমান বাজারমূল্য ১২ লক্ষ ৯৮ হাজার ৬৫০ টাকা। এছাড়াও বিধায়কের সংগ্রহে রয়েছে ১০ লক্ষ ১২ হাজার টাকার অলঙ্কার এবং এলআইসি-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাঁর বিনিয়োগের পরিমাণ ৩৩ লক্ষ ৯১ হাজার ১৪৫ টাকা। স্থাবর সম্পত্তির তালিকায় ভবানীপুর ও ডায়মন্ড হারবারে তাঁর দুটি বাড়ি রয়েছে, যেগুলির সম্মিলিত বাজারমূল্য প্রায় ৫৪ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা। তবে তাঁর কাঁধে ১৪ লক্ষ ৭৭ হাজার ৫০৯ টাকার ঋণও রয়েছে।
মদন মিত্রের হলফনামায় তাঁর বিরুদ্ধে থাকা ফৌজদারি মামলার বিষয়টিও উঠে এসেছে। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডি এবং সিবিআই মিলিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে মোট ৬টি মামলা রয়েছে, যদিও কোনোটিতেই তিনি দোষী সাব্যস্ত হননি। অন্যদিকে, তাঁর স্ত্রীর সম্পত্তির পরিমাণও নেহাত কম নয়। তাঁর মোট অস্থাবর সম্পত্তির মূল্য ৭৪ লক্ষ ৪৪ হাজার ৪৬৮ টাকা এবং স্থাবর সম্পত্তি হিসেবে ভবানীপুরে একটি ৫৫ লক্ষ টাকার বাড়ি রয়েছে। স্ত্রীর ব্যাঙ্কে জমার পরিমাণ ১১ লক্ষ ৮০ হাজার ৬১৮ টাকা এবং ৩২ লক্ষ ৯০ হাজার টাকার গয়না ছাড়াও ৭ লক্ষ ৮ হাজার টাকার একটি গাড়ি রয়েছে। সব মিলিয়ে মিত্র পরিবারের সম্পত্তির এই সামগ্রিক চিত্রটি বর্তমানে রাজনৈতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে।