ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে নমিনি নেই? মৃত্যুর পর জমানো টাকা কি তাহলে ডুবে যাবে

ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে নমিনি নেই? মৃত্যুর পর জমানো টাকা কি তাহলে ডুবে যাবে

নিজের কষ্টার্জিত অর্থ সুরক্ষিত রাখতে আমরা ব্যাঙ্কে জমা রাখি। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায়, ব্যক্তিগত অলসতা বা অসচেতনতার কারণে আমরা ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ‘নমিনি’ বা উত্তরাধিকারীর নাম নথিভুক্ত করি না। আচমকা অ্যাকাউন্ট হোল্ডারের মৃত্যু হলে এবং অ্যাকাউন্টে নমিনি না থাকলে সেই গচ্ছিত অর্থের ভবিষ্যৎ কী হবে, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে নানা প্রশ্ন রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে টাকা কি ব্যাঙ্কের হয়ে যায়, নাকি তা ফিরে পাওয়ার কোনো পথ খোলা থাকে, তা বিশদে জানা জরুরি।

প্রথমেই স্পষ্ট করে নেওয়া ভালো যে, নমিনি না থাকলেও গ্রাহকের টাকা কখনওই ব্যাঙ্কের হয়ে যায় না বা ‘ডুবে’ যায় না। ওই অর্থ অ্যাকাউন্ট হোল্ডারের ব্যক্তিগত সম্পত্তি হিসেবেই গণ্য হয় এবং তার আইনত উত্তরাধিকারীরাই এই অর্থের প্রকৃত দাবিদার। তবে নমিনি না থাকার ফলে টাকা উদ্ধারের প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত জটিল এবং দীর্ঘমেয়াদী হয়ে পড়ে। ব্যাঙ্ককে নিশ্চিত করতে হয় যে তারা সঠিক ব্যক্তির হাতেই টাকা তুলে দিচ্ছে, যাতে ভবিষ্যতে অন্য কোনো দাবিদার নিয়ে আইনি জটিলতা তৈরি না হয়।

নমিনি না থাকলে পরিবারের সদস্যদের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি ব্যাঙ্কে পেশ করতে হয়। প্রথমত, অ্যাকাউন্ট হোল্ডারের মৃত্যু শংসাপত্র বা ডেথ সার্টিফিকেট বাধ্যতামূলক। এরপর সবথেকে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায় ‘সাকসেশন সার্টিফিকেট’ বা উত্তরাধিকারী শংসাপত্র সংগ্রহ করা। এটি আদালত থেকে জারি করা একটি আইনি নথি, যা প্রমাণ করে যে আবেদনকারী ব্যক্তিই মৃত ব্যক্তির আসল উত্তরাধিকারী। এই শংসাপত্র জোগাড় করতে বিপুল সময় এবং আইনি খরচ হয়, যা সাধারণ মানুষের জন্য মানসিক উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

যদি মৃত ব্যক্তি কোনো রেজিস্টার্ড ‘উইল’ বা অছিয়তনামা রেখে যান, তবে সেটিও আদালতের নির্দেশের সাথে জমা দিতে হতে পারে। এছাড়া একাধিক উত্তরাধিকারী থাকলে বাকিদের থেকে ‘নো অবজেকশন সার্টিফিকেট’ বা এনওসি সংগ্রহ করতে হয়। তবে যদি অ্যাকাউন্টে জমানো অর্থের পরিমাণ খুব সামান্য হয়, সেক্ষেত্রে ব্যাঙ্ক নিজস্ব বিবেচনার ভিত্তিতে ‘ইন্ডেমনিটি বন্ড’ এবং সাক্ষীর উপস্থিতিতে টাকা ফেরত দিতে পারে। কিন্তু বড় অঙ্কের টাকার ক্ষেত্রে কঠোর আইনি নথি ছাড়া ব্যাঙ্ক কোনো ঝুঁকি নেয় না।

আরবিআই (RBI) বারবার গ্রাহকদের অ্যাকাউন্টে নমিনি যুক্ত করার পরামর্শ দেয় এই কারণেই। যদি নমিনি থাকে, তবে ব্যাঙ্কের পক্ষে সরাসরি ওই ব্যক্তির কাছে অর্থ হস্তান্তর করা সহজ হয় এবং পরিবারকে কোনো আইনি লড়াইয়ের সম্মুখীন হতে হয় না। নমিনি না থাকার অর্থ হলো উত্তরাধিকারীদের বছরের পর বছর আদালতের চক্কর কাটা। তাই আজই আপনার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে নমিনি পরীক্ষা করুন এবং না থাকলে দ্রুত তা অন্তর্ভুক্ত করুন। এতে আপনার অনুপস্থিতিতে প্রিয়জনরা অন্তত আর্থিক সংকটে পড়বেন না।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *