ব্যান্ডপার্টি ও মিষ্টিমুখের মাধ্যমে ডিভোর্সি মেয়েকে বরণ করে নিলেন বিচারক বাবা

ব্যান্ডপার্টি ও মিষ্টিমুখের মাধ্যমে ডিভোর্সি মেয়েকে বরণ করে নিলেন বিচারক বাবা

উত্তরপ্রদেশের মেরঠে এক অনন্য নজির সৃষ্টি করলেন অবসরপ্রাপ্ত বিচারক জ্ঞানেন্দ্র শর্মা। দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে আদালতের নির্দেশে মেয়ের বিবাহবিচ্ছেদ মঞ্জুর হতেই ভেঙে না পড়ে বরং উৎসবের আমেজ তৈরি করেন তিনি। ব্যান্ডপার্টি বাজিয়ে এবং উপস্থিত জনতাকে মিষ্টিমুখ করিয়ে হাসিমুখে মেয়েকে নিজের বাড়িতে ফিরিয়ে আনেন ওই পিতা। সামাজিক গ্লানি কাটিয়ে মেয়ের নতুন জীবনের পথ প্রশস্ত করতে তাঁর এই উদ্যোগ এখন নেটপাড়ায় চর্চার বিষয়।

২০১৮ সালে এক সেনাকর্মীর সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন জ্ঞানেন্দ্রবাবুর কন্যা প্রণিতা। তবে বিয়ের কিছু সময় পর থেকেই শ্বশুরবাড়িতে তাঁর ওপর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন শুরু হয় বলে অভিযোগ। দীর্ঘ সময় প্রতিকূল পরিস্থিতির সঙ্গে লড়াই করার পর শেষপর্যন্ত আইনি বিচ্ছেদের পথে হাঁটতে বাধ্য হন তিনি। মেয়ের এই কঠিন সময়ে ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন তাঁর বাবা। বিচ্ছেদের দিন দুই জনকেই বিশেষ বার্তা লেখা কালো টি-শার্টে দেখা যায়।

আদালতের সামনেই আনন্দ-উৎসবের মাধ্যমে মেয়েকে বরণ করার এই ঘটনাটি সমাজের প্রচলিত ধারণা ভেঙে দিয়েছে। বাবার টি-শার্টে লেখা ছিল, “আমি আমার মেয়েকে ভালোবাসি, সে আমার প্রাণ।” অন্যদিকে প্রণিতার পোশাকে লেখা ছিল, “আমার পরিবারই আমার জীবন।” বাবার হাত শক্ত করে ধরে প্রণিতার সেই হাসিমুখের ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়। বাবার এমন সমর্থন প্রণিতার আত্মবিশ্বাস আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে মেরঠের রাস্তায় রীতিমতো শোভাযাত্রা করে মেয়েকে বাড়ি নিয়ে আসা হয়। জ্ঞানেন্দ্র শর্মা জানিয়েছেন, বিবাহবিচ্ছেদ মানে জীবনের শেষ নয়, বরং এক যন্ত্রণাদায়ক অধ্যায় থেকে মুক্তি। কোনো মেয়েই যেন শ্বশুরবাড়িতে মুখ বুজে অত্যাচার সহ্য না করেন এবং বাবারা যেন সর্বদা মেয়ের পাশে থাকেন, সেই বার্তাই দিতে চেয়েছেন তিনি।

এই উদযাপন সাধারণ মানুষের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করলেও অধিকাংশই একজন পিতার এমন লড়াকু মানসিকতার প্রশংসা করেছেন। বিশেষ করে উত্তরপ্রদেশের মতো রক্ষণশীল এলাকায় এই ঘটনা নারী স্বাধীনতার এক নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। প্রণিতার জন্য এটি একটি নতুন শুরুর বার্তা, যেখানে তাঁর পরিবারই তাঁর সবচেয়ে বড় শক্তি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *