ব্যারেল প্রতি তেলের দাম ২০০ ডলার ছাড়ানোর হুঁশিয়ারি ইরানের বিশ্বজুড়ে চরম অস্থিরতার আশঙ্কা

আমেরিকা ও ইজরায়েলের সঙ্গে বাড়তে থাকা সংঘাতের জেরে রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী। ইরানের আধাসামরিক বাহিনী ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) সাফ জানিয়ে দিয়েছে, এই জলপথ দিয়ে এক লিটার তেলও যেতে দেওয়া হবে না। আইআরজিসির খাতাম আল-আনবিয়া সদর দপ্তরের মুখপাত্র বুধবার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রতি ব্যারেল তেলের দাম ২০০ ডলারে পৌঁছাতে পারে। ইরান স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, আমেরিকা বা ইজরায়েলের সঙ্গে যুক্ত যেকোনো জাহাজকে তারা বৈধ লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচনা করবে।
বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাতায়াত করে। এই পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এবং ওমান উপকূলে থাই পতাকাবাহী জাহাজসহ তিনটি জাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকটের অশনি সংকেত দেখা দিয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় জরুরি পদক্ষেপ নিয়েছে ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সি (আইইএ)। সংস্থার ৩২টি সদস্য দেশ তাদের জরুরি মজুত থেকে প্রায় ৪০ কোটি ব্যারেল তেল বাজারে ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আইইএ-র নির্বাহী পরিচালক ফাতিহ বিরোল জানান, বাজারের অস্থিরতা কমাতেই এই বিশাল পরিমাণ তেল ছাড়ার পথে হাঁটছে তারা।
জাপান ইতিমধ্যেই তাদের সরকারি ও বেসরকারি মজুত থেকে আট কোটি ব্যারেল তেল বাজারে ছাড়ার প্রক্রিয়া শুরু করার ঘোষণা দিয়েছে। অন্যদিকে জার্মানি ও অস্ট্রিয়াও তাদের কৌশলগত মজুত ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, দ্রুত এই সংকট সমাধান না হলে ইউরোপসহ গোটা বিশ্ব দীর্ঘমেয়াদী জ্বালানি ও শিপিং সংকটে নিমজ্জিত হতে পারে। ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই সংঘাত থামার কোনো লক্ষণ না থাকায় বিশ্ব অর্থনীতি এখন খাদের কিনারে দাঁড়িয়ে।