ব্যালটেই মিলবে মোদীর আক্রমণের যোগ্য জবাব, পাল্টা তোপ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের
কোচবিহারের রাসমেলার মাঠ থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর করা আক্রমণের পাল্টায় এবার তীব্র আক্রমণ শানালেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রেক্ষিতে তাঁর দাবি, গণতন্ত্রে কারোর কাজের হিসাব নেওয়ার অধিকার কেবল সাধারণ মানুষেরই থাকে। কোনো ব্যক্তি বা প্রধানমন্ত্রী নিজে সেই হিসাব নেওয়ার অধিকারী নন। বাংলার মানুষের গণতান্ত্রিক রায়কে সম্মান না জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী যে ভাষায় আক্রমণ করেছেন, তা তাঁর ‘অহংকার’ বলে অভিহিত করেন অভিষেক।
তৃণমূল সাংসদ অভিযোগ করেন যে, প্রধানমন্ত্রী নিজেকে প্রায় ঈশ্বরের আসনে বসিয়েছেন এবং মনে করছেন তিনি বাংলার সাধারণ মানুষের ‘হিসাব’ নিতে পারেন। বারবার নির্বাচনে বাংলার মানুষ বিজেপিকে প্রত্যাখ্যান করায় প্রধানমন্ত্রী এই ধরণের প্রতিহিংসামূলক মনোভাব দেখাচ্ছেন বলে তাঁর দাবি। অভিষেকের মতে, এই অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস এবং অহংকার প্রধানমন্ত্রীর বিচারবুদ্ধিকে আচ্ছন্ন করে ফেলেছে। ক্ষমতার লড়াই করতে গিয়ে রাজ্যে যে প্রাণহানি ও অশান্তি হয়েছে, তার দায় নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
নির্বাচনী লড়াইয়ের ময়দানে তৃণমূল কংগ্রেস যে পুরোপুরি প্রস্তুত, সেই বার্তাও স্পষ্ট করে দিয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। রায়না, গোসাবা থেকে শুরু করে সাতগাছিয়া— রাজ্যের ২৯৪টি বিধানসভা কেন্দ্রের মানুষই ব্যালট বাক্সে এর চূড়ান্ত জবাব দেবেন বলে তিনি প্রত্যয় প্রকাশ করেন। মন্দিরা দলুই, সুব্রত মণ্ডল বা সোমাশ্রী বেতালের মতো তৃণমূল প্রার্থীদের জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী অভিষেক জানান, ‘মা-মাটি-মানুষ’-এর প্রতিনিধিরাই শেষ পর্যন্ত জয়ী হবেন।
পরিশেষে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট করে দেন যে, দিল্লির শাসকরা যদি বাংলার মানুষের থেকে হিসাব চায়, তবে সেই হিসাব বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য বাংলার জনগণই যথেষ্ট। মোদীর সমালোচনার প্রত্যুত্তরে তিনি জানান, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই জনগণ তাদের মত প্রকাশ করবে এবং ব্যালট পেপারেই যাবতীয় বিরোধের মীমাংসা হবে। প্রধানমন্ত্রীর আক্রমণাত্মক প্রচারের মুখে দাঁড়িয়ে অভিষেকের এই কড়া অবস্থান রাজ্যের রাজনৈতিক উত্তাপকে আরও বাড়িয়ে দিল।