ব্রিটেনের আকাশছোঁয়া কড়াকড়ি! নতুন ইটিএ নিয়ম না মানলে বিমানবন্দরেই বাতিল হতে পারে সফর

ব্রিটেনের আকাশছোঁয়া কড়াকড়ি! নতুন ইটিএ নিয়ম না মানলে বিমানবন্দরেই বাতিল হতে পারে সফর

ব্রিটেন ভ্রমণের স্বপ্ন দেখছেন? তবে সাবধান! ব্রিটিশ সরকারের নতুন এক সিদ্ধান্তে এখন বিদেশ সফর হয়ে উঠতে পারে বেশ জটিল। বিশেষ করে যারা ভিসা ছাড়াই ব্রিটেন যাওয়ার কথা ভাবছিলেন, তাদের জন্য জারি হয়েছে এক কড়া নির্দেশিকা।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, বিশ্বের ৮৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য এখন ‘ইলেকট্রনিক ট্রাভেল পারমিট’ বা ইটিএ (ETA) বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এই তালিকায় রয়েছে আমেরিকা, কানাডা, ফ্রান্স, অস্ট্রেলিয়া এবং সিঙ্গাপুরের মতো উন্নত দেশগুলোও। ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাফ কথা, দেশের অভিবাসন ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক এবং সুরক্ষিত করতেই এই বড় পদক্ষেপ।

কী এই ইটিএ নিয়ম?

২০২৩ সালে পরীক্ষামূলকভাবে এই প্রকল্প শুরু হলেও এখন থেকে এটি পূর্ণ শক্তিতে কার্যকর হচ্ছে। নিয়মটি হলো:

  • যেসব দেশের নাগরিকদের ব্রিটেনে ঢুকতে ভিসার প্রয়োজন হয় না, তাদের এখন থেকে দেশটিতে পৌঁছানোর আগেই অনলাইন পারমিট নিতে হবে।
  • এই আবেদন প্রক্রিয়ার জন্য খরচ করতে হবে ১৬ পাউন্ড (ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ১৮০০ থেকে ২০০০ টাকা)।
  • একবার এই অনুমোদন পেয়ে গেলে একজন যাত্রী টানা ৬ মাস ব্রিটেনে থাকার অনুমতি পাবেন।
  • পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে হবে ব্রিটিশ সরকারের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটের মাধ্যমে।

চেক-ইন কাউন্টারেই মিলবে বাধা

ব্রিটিশ সরকারের অভিবাসন মন্ত্রী মাইক ট্যাপ জানিয়েছেন, সীমান্ত সুরক্ষা আরও মজবুত করতেই এই ডিজিটাল ব্যবস্থা। যদি কোনো যাত্রীর কাছে বৈধ ইটিএ, ই-ভিসা বা প্রয়োজনীয় নথি না থাকে, তবে বিমান সংস্থাগুলো তাদের বোর্ডিং পাস দেবে না। অর্থাৎ, বিমানবন্দরে গিয়েই আপনার বিদেশ যাত্রা থমকে যেতে পারে। তবে ব্রিটিশ ও আইরিশ নাগরিক এবং যাদের ব্রিটেনে স্থায়ীভাবে বসবাসের অধিকার রয়েছে, তারা এই নিয়মের আওতার বাইরে থাকবেন।

ব্রেক্সিট-পরবর্তী সময়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নতুন এন্ট্রি/এক্সিট সিস্টেমের (EES) সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই এই পরিবর্তন আনা হয়েছে। তাই ব্রিটেন যাওয়ার আগে আপনার প্রয়োজনীয় পারমিট আছে কি না, তা যাচাই করে নেওয়া এখন একান্ত জরুরি। অন্যথায় শেষ মুহূর্তের ঝক্কিতে মাটি হতে পারে আপনার পুরো ভ্রমণ পরিকল্পনা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *