‘ব্রোকার’ হয়েই থাকল পাকিস্তান? মার্কিন-ইরান ২১ ঘণ্টার ম্যারাথন বৈঠক ব্যর্থ, নেপথ্যে জেডি ভেন্সের কৌশল!

‘ব্রোকার’ হয়েই থাকল পাকিস্তান? মার্কিন-ইরান ২১ ঘণ্টার ম্যারাথন বৈঠক ব্যর্থ, নেপথ্যে জেডি ভেন্সের কৌশল!

ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত আমেরিকা ও ইরানের মধ্যস্থতাকারী বৈঠক কোনো সুনির্দিষ্ট সমাধান ছাড়াই শেষ হয়েছে। টানা ২১ ঘণ্টার দীর্ঘ আলোচনার পর ওয়াশিংটন এবং তেহরান কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন করে অস্থিরতার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। যদিও মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, এই বৈঠকের মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে একটি ইতিবাচক পরিবেশ বা ‘গুডউইল’ তৈরি হয়েছে, তবে মূল সংকট নিরসনে তা যথেষ্ট ছিল না।

কেন ভেস্তে গেল ঐতিহাসিক এই আলোচনা

ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে মার্কিন প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন জে ডি ভ্যান্স। আলোচনার মূল লক্ষ্য ছিল দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের অবিশ্বাস দূর করা এবং একটি সম্ভাব্য যুদ্ধ বিরতির পথ প্রশস্ত করা। কিন্তু কয়েকটি মৌলিক বিষয়ে দুই পক্ষ অনড় অবস্থানে থাকায় আলোচনা ব্যর্থ হয়:

  • পারমাণবিক কর্মসূচি: আমেরিকা সাফ জানিয়েছে যে ইরানকে তাদের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির উচ্চাকাঙ্ক্ষা ত্যাগ করতে হবে। অন্যদিকে তেহরান এটিকে তাদের সার্বভৌমত্বের প্রশ্ন হিসেবে দেখছে।
  • হরমুজ প্রণালী: মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে তীব্র মতপার্থক্য দেখা দেয়।
  • অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা: ইরান তাদের ওপর আরোপিত কঠোর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানালেও ওয়াশিংটন শর্তহীনভাবে তাতে রাজি হয়নি।

মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানের সীমাবদ্ধতা

এই আলোচনায় পাকিস্তানের ভূমিকা মূলত একজন ‘ব্রোকার’ বা যোগাযোগ স্থাপনকারীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। ইসলামাবাদ দুই পক্ষকে আলোচনার টেবিলে বসাতে পারলেও তাদের মধ্যকার গভীর অবিশ্বাসের প্রাচীর ভাঙতে পারেনি। কোনো পক্ষই ন্যূনতম সাধারণ সম্মতিতে পৌঁছাতে না পারায় পাকিস্তানের কূটনৈতিক দক্ষতা এখন প্রশ্নের মুখে।

একে অপরকে দোষারোপ

বৈঠক শেষে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ সরাসরি আমেরিকাকে দায়ী করেছেন। তার মতে, গত দুটি যুদ্ধের তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকে ইরানের পক্ষে আমেরিকার ওপর ভরসা করা কঠিন। অন্যদিকে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স স্পষ্ট করেছেন যে ইরান পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধের গ্যারান্টি না দেওয়ায় চুক্তি সম্ভব হয়নি। এই ব্যর্থতার পরপরই ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন অবরোধের ঘোষণা দেওয়ায় বিশ্ব জ্বালানি বাজারে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।

একঝলকে

মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানের ভূমিকা ফলপ্রসূ হয়নি।

ইসলামাবাদে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে ২১ ঘণ্টার দীর্ঘ বৈঠক ব্যর্থ হয়েছে।

পারমাণবিক কর্মসূচি ও অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা নিয়ে দুই দেশই অনড় অবস্থানে।

মার্কিন প্রতিনিধি জে ডি ভ্যান্সের মতে, চুক্তিতে না পৌঁছালেও আলোচনার পরিবেশ ছিল ইতিবাচক।

ইরানের দাবি, আমেরিকা তাদের বিশ্বাস জয় করতে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে।

বৈঠক পরবর্তী উত্তেজনায় হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন অবরোধের ঘোষণা এসেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *