ব্লাড ক্যান্সার রুখতে আজই ডায়েট থেকে বাদ দিন ৫টি জিনিস, নতুবা বড় বিপদ

ব্লাড ক্যান্সার রুখতে আজই ডায়েট থেকে বাদ দিন ৫টি জিনিস, নতুবা বড় বিপদ

ক্যান্সার এমন এক মারণব্যাধি যার নাম শুনলেই সাধারণ মানুষের মনে আতঙ্ক তৈরি হয়। বর্তমান সময়ে অনিয়মিত জীবনযাপন এবং খাদ্যাভ্যাসের কারণে এই রোগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। মুখ বা ফুসফুসের ক্যান্সারের মতোই ব্লাড ক্যান্সার বা রক্তাল্পতা জনিত ক্যান্সার অত্যন্ত মারাত্মক। এই রোগে শরীরের রক্ত তৈরির কোষগুলো অস্বাভাবিকভাবে বাড়তে থাকে, যা হাড়ের মজ্জা (Bone Marrow) এবং লিম্ফ্যাটিক সিস্টেমকে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত করে। লিউকেমিয়া, লিম্ফোমা এবং মাইলোমা হলো ব্লাড ক্যান্সারের প্রধান ধরণ। মূলত জেনেটিক পরিবর্তন, দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং অস্বাস্থ্যকর অভ্যাসের কারণেই এই রোগের ঝুঁকি বাড়ে।

ব্লাড ক্যান্সার আসলে কী?

সহজ কথায় বলতে গেলে, ব্লাড ক্যান্সার এমন একটি অবস্থা যেখানে শরীরের রক্তকণিকাগুলো তাদের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা হারিয়ে ফেলে এবং অনিয়ন্ত্রিতভাবে বৃদ্ধি পায়। সুস্থ শরীরে নির্দিষ্ট নিয়মে রক্তকণিকা তৈরি হয়, কিন্তু ক্যান্সারে আক্রান্ত হলে ত্রুটিপূর্ণ কোষগুলো সুস্থ কোষের জায়গা দখল করে নেয়। এর ফলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বা ইমিউনিটি সিস্টেম পুরোপুরি ভেঙে পড়ে।

সতর্ক হোন এই লক্ষণগুলো দেখলে

ব্লাড ক্যান্সার শরীরে বাসা বাঁধলে বেশ কিছু উপসর্গ দেখা দেয় যা এড়িয়ে যাওয়া উচিত নয়—

  • দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তি বা দুর্বলতা অনুভব করা।
  • বারবার জ্বর হওয়া বা ঘনঘন সংক্রমণে আক্রান্ত হওয়া।
  • দ্রুত ওজন কমে যাওয়া।
  • শরীরে কালশিটে পড়া বা সামান্য আঘাতেই রক্তপাত হওয়া।
  • ঘাড় বা বগলের লিম্ফ নোড ফুলে যাওয়া।

যে ৫টি অভ্যাস বা জিনিস আজই ত্যাগ করা জরুরি

চিকিৎসকদের মতে, সম্পূর্ণভাবে রোগ ঠেকানো সম্ভব না হলেও জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনলে ঝুঁকির মাত্রা অনেকটাই কমানো যায়। সেক্ষেত্রে নিচের ৫টি বিষয়ে কড়া নজর দেওয়া প্রয়োজন—

১. ধূমপান ও তামাক সেবন: বিড়ি, সিগারেট বা যেকোনো ধরণের তামাক সরাসরি শরীরের কোষের ডিএনএ নষ্ট করে দেয়। এটি রক্তকণিকার স্বাভাবিক বৃদ্ধিতে বাধা দেয় এবং ক্যান্সারের ঝুঁকি কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেয়।

২. প্রসেসড এবং জাঙ্ক ফুড: প্যাকেটজাত খাবার বা প্রসেসড মিটে এমন কিছু রাসায়নিক থাকে যা শরীরে প্রদাহ (Inflammation) তৈরি করে। দীর্ঘ সময় ধরে এসব খাবার খেলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়, যা ক্যান্সার কোষ বিস্তারে সাহায্য করে।

৩. রাসায়নিক সংস্পর্শ: যারা রং (Paint), পেট্রোলিয়াম বা বিভিন্ন ইন্ডাস্ট্রিয়াল কেমিক্যাল নিয়ে কাজ করেন, তাদের ব্লাড ক্যান্সারের ঝুঁকি সাধারণ মানুষের চেয়ে বেশি। এই ধরণের রাসায়নিকের সংস্পর্শে আসার সময় প্রয়োজনীয় সুরক্ষা সরঞ্জাম ব্যবহার করা বাধ্যতামূলক।

৪. অপ্রয়োজনীয় রেডিয়েশন: কথায় কথায় এক্স-রে বা বারবার সিটি স্ক্যান করানোর অভ্যাস বিপজ্জনক হতে পারে। উচ্চমাত্রার রেডিয়েশন শরীরের সুস্থ কোষকে নষ্ট করে দেয়। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ঘনঘন রেডিয়েশন টেস্ট করানো এড়িয়ে চলুন।

৫. অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন: অপর্যাপ্ত ঘুম, অতিরিক্ত মানসিক চাপ, ব্যায়ামের অভাব এবং স্থূলতা বা অতিরিক্ত ওজন ক্যান্সারের অন্যতম কারণ। নিয়মিত শারীরিক কসরত এবং স্বাস্থ্যকর ঘুম শরীরকে ভেতর থেকে শক্তিশালী রাখে।

ব্লাড ক্যান্সার থেকে দূরে থাকতে সচেতনতাই একমাত্র পথ। জীবনযাত্রায় সামান্য পরিবর্তন এবং সঠিক খাদ্যাভ্যাস আপনাকে এই মারণব্যাধির হাত থেকে রক্ষা করতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *