ভক্তির বৈচিত্র্য: ভারতের এই মন্দিরগুলিতে দেবতার পাশাপাশি পূজিত হয় পশুরাও

ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে এমন কিছু মন্দির রয়েছে যেখানে দেবদেবীর পাশাপাশি পশুপাখিরাও বিশেষ মর্যাদায় পূজিত হয়। রাজস্থানের কর্ণিমাতা মন্দিরে হাজার হাজার ইঁদুর বা ‘কাব্বাস’ অবাধে বিচরণ করে এবং তাদের প্রসাদ নিবেদন করা হয়। একইভাবে, কেরলের মান্নারাসালা মন্দিরে সাপকে দেবতা জ্ঞানে দুধ দিয়ে পুজো করার রীতি প্রচলিত। নেপাল ও কর্ণাটকের বিভিন্ন মন্দিরে গোমাতা বা গরুকে ঐশ্বরিক সম্মানে ভূষিত করা হয়।
অন্যদিকে, ছত্তিশগড়ের চণ্ডীমাতা মন্দিরে বন্য ভাল্লুকদের উপস্থিতি এবং তাদের প্রসাদ খাওয়ানোর দৃশ্য ভক্তদের অবাক করে। কর্ণাটকের ছান্নাপাটনা এবং কেরলের মুত্থাপ্পন মন্দিরে কুকুরকে প্রভুভক্ত ও রক্ষক হিসেবে পুজো করা হয়। স্থানীয়দের বিশ্বাস, এই সারমেয়রা মন্দিরকে যাবতীয় অশুভ শক্তি থেকে রক্ষা করে। এমনকি মন্দিরে আসা ভাল্লুকেরা সাধারণত কাউকে আঘাত করে না বলেই ভক্তদের দাবি।
ব্যতিক্রমী এই মন্দিরগুলি কেবল ধর্মীয় বিশ্বাস নয়, বরং মানুষ ও পশুদের মধ্যে এক অনন্য আধ্যাত্মিক সম্পর্কের প্রতীক। আদিবাসী সংস্কৃতি থেকে শুরু করে প্রচলিত হিন্দু ধর্মশাস্ত্রেও প্রকৃতির এই জীবদের বিশেষ স্থান দেওয়া হয়েছে। হাতে সময় থাকলে আধ্যাত্মিক চেতনার এই বৈচিত্র্যময় রূপ দেখতে দর্শনার্থীরা এই মন্দিরগুলিতে ঢুঁ মারতেই পারেন, যা ভারতীয় সংস্কৃতির এক উজ্জ্বল উদাহরণ।