ভবানীপুরে কি নন্দীগ্রামের পুনরাবৃত্তি ভোটার তালিকায় বড় রদবদলে কপালে চিন্তার ভাঁজ তৃণমূলের

২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রামে হার স্বীকার করতে হয়েছিল মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। সেই একই পরিস্থিতির ছায়া এবার তাঁর নিজের গড় ভবানীপুরেও দেখা দিতে পারে বলে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে ভোটার তালিকার বিশেষ পুনরীক্ষণ বা এসআইআর-এর পর সমীকরণ দ্রুত বদলাতে শুরু করেছে। এই রদবদল আসন্ন নির্বাচনে শাসক শিবিরের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
ঐতিহাসিকভাবে ভবানীপুর কংগ্রেসের শক্ত ঘাঁটি ছিল। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে সিদ্ধার্থ শঙ্কর রায়ের মতো নেতারা এখান থেকে প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ২০১১ সালে রাজ্যে পালাবদলের পর এই কেন্দ্রটি তৃণমূলের দুর্গে পরিণত হয়। তবে সাম্প্রতিক ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া সেই আধিপত্যে আঘাত হানার ইঙ্গিত দিচ্ছে। সংশোধিত তালিকায় প্রায় ৪৭ হাজার ভোটারের নাম বাদ পড়েছে এবং আরও ১৪ হাজার নাম যাচাইয়ের অপেক্ষায় রয়েছে।
ভোটার তালিকা থেকে এই বিপুল সংখ্যক নাম বাদ পড়া রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। গত উপনির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জয়ের ব্যবধান ছিল প্রায় ৫৮ হাজার। বর্তমানে যে সংখ্যক নাম বাদ গিয়েছে, তা এই জয়ের ব্যবধানের অনেকটাই কাছাকাছি। ফলে নতুন ভোটার তালিকায় বিরোধী শক্তির প্রভাব বাড়লে ফলাফলে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই কেন্দ্রে ৪২ শতাংশ বাঙালি হিন্দু এবং ৩৪ শতাংশ অবাঙালি হিন্দু ভোটারের বাস।
বিজেপি এই সুযোগকেই কাজে লাগাতে মরিয়া। শুভেন্দু অধিকারী ইতিপূর্বেই এই কেন্দ্র থেকে বড় ব্যবধানে জয়ের দাবি করেছেন। গেরুয়া শিবিরের মূল ভরসা মূলত অবাঙালি ভোটার এবং তরুণ প্রজন্মের একাংশ। ২০১৪ ও ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের নিরিখে ভবানীপুরের বেশ কিছু ওয়ার্ডে বিজেপি লিড পেয়েছিল। তাদের দাবি, জনতাত্ত্বিক পরিবর্তন এবং তৃণমূল বিরোধী ভোট একত্রিত হলে ফলাফল উল্টে যেতে পারে।
পাল্টা কৌশল সাজিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসও। দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবার জয়ের লক্ষ্যমাত্রা ৬০ হাজার ভোটের ওপরে স্থির করেছেন। প্রতিটি বুথে জেতার লক্ষ্য নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে কর্মীদের। ২৩১টি বুথেই লিড নিশ্চিত করতে মরিয়া ঘাসফুল শিবির। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যক্তিগত ক্যারিশমা এবং উন্নয়নের খতিয়ানই তাঁদের প্রধান হাতিয়ার।
আগামী ২৩ এবং ২৯ এপ্রিল দুই দফায় রাজ্যে ভোটগ্রহণ হবে এবং ফল ঘোষণা ৪ মে। ভবানীপুরের এই লড়াই কি কেবল রাজনৈতিক আধিপত্যের, নাকি অস্তিত্ব রক্ষার? ভোটারদের বদলে যাওয়া মেজাজ আর ভোটার তালিকার জটিল অংক কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে গোটা বাংলা। শেষ পর্যন্ত নন্দীগ্রামের পুনরাবৃত্তি হবে নাকি নিজের গড় রক্ষা করবেন মমতা, তা সময়ই বলবে।