ভবানীপুরে বিজেপির ‘বুথ চলো’ দাওয়াই, ৬০ থেকে ৮০ শতাংশ ভোটই কি জয়ের চাবিকাঠি?

ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের আসন্ন নির্বাচনে প্রচারের গণ্ডি পেরিয়ে এখন মূল লড়াই দাঁড়িয়েছে ভোটারদের বুথমুখী করার কৌশলে। একদিকে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস যখন বাড়ি বাড়ি গিয়ে নিবিড় জনসংযোগের মাধ্যমে সমর্থন পোক্ত করতে চাইছে, তখন বিজেপি লক্ষ্য স্থির করেছে ভোটের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করার ওপর। বিশেষ করে যারা সচরাচর ভোট দিতে বের হন না, সেই ‘অনিচ্ছুক’ ভোটারদের বুথে আনাই এখন পদ্ম শিবিরের প্রধান চ্যালেঞ্জ।
ভোটের হার ৮০ শতাংশে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা
সাধারণত ভবানীপুর কেন্দ্রে ভোটদানের হার ৬০ শতাংশের আশেপাশে ঘোরাফেরা করে। বিজেপির রণকৌশল হলো এই হার বাড়িয়ে ৮০ শতাংশে নিয়ে যাওয়া। দলীয় নেতৃত্বের মতে, ভোটদানের হার ২০ শতাংশ বৃদ্ধি করতে পারলে তৃণমূলের লিড কমানো এবং নিজেদের জয়ের পথ প্রশস্ত করা সম্ভব হবে। বিশেষ করে চক্রবেড়িয়া, অ্যালেনবি রোড এবং বাকুলবাগানের মতো এলাকাগুলোকে নিজেদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে চিহ্নিত করে সেখানে সর্বোচ্চ ভোট নিশ্চিত করতে চাইছে গেরুয়া শিবির।
বিজেপি কর্মীদের বিশেষ কৌশল ও সহায়তা
বিজেপির কর্মীরা সেই সমস্ত ভোটারদের তালিকা তৈরি করছেন যারা গত নির্বাচনে ভোট দেননি। বাড়ি বাড়ি গিয়ে তাদের অনাগ্রহের কারণ জানার চেষ্টা করা হচ্ছে। ভোটারদের উৎসাহিত করতে দলটির পক্ষ থেকে বেশ কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে:
- অসুস্থ বা বয়স্ক ভোটারদের জন্য ভোটের দিন হুইলচেয়ারের ব্যবস্থা করা।
- যাতায়াতের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তার আশ্বাস দেওয়া।
- লোকসভা ও বিধানসভা নির্বাচনের গুরুত্ব বুঝিয়ে ভোটারদের উদ্বুদ্ধ করা।
হেভিওয়েট লড়াই ও রাজনৈতিক সমীকরণ
ভবানীপুর কেন্দ্রে এবার মূল লড়াই হতে চলেছে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর মধ্যে। বামফ্রন্টের প্রার্থী হিসেবে লড়াই করছেন শ্রীজীব বিশ্বাস। উল্লেখ্য, ২০২১ সালের উপনির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখানে রেকর্ড ভোটে জিতলেও ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের নিরিখে এই এলাকায় তৃণমূলের লিড অনেকটাই কমেছে। এই বিষয়টিই বিজেপিকে বাড়তি অক্সিজেন দিচ্ছে।
ওয়ার্ডভিত্তিক রণকৌশল
ভবানীপুরের ৮টি ওয়ার্ডের সবকটিতেই তৃণমূলের কাউন্সিলর থাকলেও বিজেপি মনে করছে কিছু নির্দিষ্ট ওয়ার্ডে তারা সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে ৭৭ এবং ৮২ নম্বর ওয়ার্ডে এখনও তৃণমূলের শক্ত অবস্থান রয়েছে। বিশেষ করে ৮২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর তথা কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিমকে কলকাতা বন্দর কেন্দ্রে ব্যস্ত রেখে ভবানীপুরের ওই অংশে ফায়দা তুলতে চাইছে বিজেপি।
একঝলকে
- ভবানীপুরে ভোটদানের হার ৬০% থেকে বাড়িয়ে ৮০% করার লক্ষ্য বিজেপির।
- টার্গেটে মূলত চক্রবেড়িয়া, অ্যালেনবি রোড ও বাকুলবাগানের মতো এলাকা।
- অনিচ্ছুক ও বয়স্ক ভোটারদের বুথে আনতে হুইলচেয়ার ও বিশেষ সহায়তার প্রতিশ্রুতি।
- ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটে তৃণমূলের লিড কমে যাওয়াকে কাজে লাগাতে মরিয়া বিজেপি।
- ফিরহাদ হাকিমকে কলকাতা বন্দর কেন্দ্রে ব্যস্ত রেখে ভবানীপুরে বাড়তি সুবিধা পাওয়ার চেষ্টা।