ভবানীপুর: তৃণমূলের অপরাজেয় দুর্গ ও বিরোধীদের ভোট যুদ্ধের পরিসংখ্যান

ভবানীপুর: তৃণমূলের অপরাজেয় দুর্গ ও বিরোধীদের ভোট যুদ্ধের পরিসংখ্যান

২০১১ সালের বিধানসভা পুনর্গঠনের পর থেকে কলকাতার ভবানীপুর কেন্দ্রটি তৃণমূল কংগ্রেসের এক অভেদ্য দুর্গে পরিণত হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই খাসতালুকে গত দেড় দশকে একাধিক উপনির্বাচন ও সাধারণ নির্বাচন হলেও শাসকদলের জয়ের ধারা অব্যাহত রয়েছে। রাজনৈতিক পালাবদলের পর থেকে সুব্রত বক্সি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়—প্রত্যেকেই এই কেন্দ্রে বড় ব্যবধানে জয়লাভ করেছেন। বাম, কংগ্রেস ও বিজেপি হেভিওয়েট প্রার্থী দিয়েও এখানে তৃণমূলের আধিপত্য ভাঙতে ব্যর্থ হয়েছে।

ঐতিহাসিকভাবে কংগ্রেসের গড় হিসেবে পরিচিত এই কেন্দ্রে বর্তমানে প্রধান বিরোধী শক্তি হিসেবে উঠে এসেছে বিজেপি। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২১ সালের সাধারণ নির্বাচনে বিজেপি প্রার্থী রুদ্রনীল ঘোষ ৪৪,৭৮৬ ভোট পেয়েছিলেন, যা এই কেন্দ্রে তৃণমূলের বিরুদ্ধে কোনো বিরোধী প্রার্থীর পাওয়া সর্বোচ্চ ভোট। এর আগে ২০১৬ সালে বাম-কংগ্রেস জোটের প্রার্থী দীপা দাশমুন্সী প্রায় ৪০,২১৯ ভোট পেয়ে শাসকদলকে কড়া টক্কর দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। তবে বিশাল ব্যবধানে জয়ী হয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের জনপ্রিয়তা প্রমাণ করেন।

ভবানীপুরের জনবিন্যাসে হিন্দু ও সংখ্যালঘু ভোটের সমীকরণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও বরাবরই এখানে উন্নয়ন ও ‘ঘরের মেয়ে’ আবেগ কাজ করেছে। স্থানীয় হিন্দিভাষী ও মধ্যবিত্ত বাঙালি ভোটারদের বড় অংশ তৃণমূলের পাশেই থেকেছেন। বিরোধী শিবির ধর্মীয় মেরুকরণ বা প্রার্থী বদলের কৌশল নিলেও তৃণমূলের ভোটব্যাংকে বড়সড় ফাটল ধরানো সম্ভব হয়নি। ফলে আসন্ন নির্বাচনগুলোতেও এই কেন্দ্রটি রাজ্যের রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু এবং শাসকদলের অন্যতম শক্তিশালী স্তম্ভ হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *