ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য কেন্দ্রের বড় পদক্ষেপ, ২০২৮ থেকে নিষিদ্ধ হচ্ছে এইচএফসি (HFC) গ্যাস!

জলবায়ু পরিবর্তন ও বিশ্ব উষ্ণায়ন মোকাবিলায় এক সাহসী সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। গ্লোবাল ওয়ার্মিং বা ভূ-তাপমাত্রা বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে পরিচিত হাইড্রোফ্লুরোকার্বন (HFC) গ্যাসের উৎপাদন বন্ধের লক্ষ্যে নতুন নির্দেশিকা জারি করেছে কেন্দ্রীয় পরিবেশ মন্ত্রক। ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে দেশে নতুন কোনো এইচএফসি উৎপাদন ইউনিটের অনুমোদন দেওয়া হবে না বলে জানানো হয়েছে।
এইচএফসি কেন পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর
সাধারণত আমাদের ব্যবহৃত এসি, রেফ্রিজারেটর এবং ফোম তৈরিতে কুল্যান্ট হিসেবে এইচএফসি গ্যাস ব্যবহার করা হয়। যদিও এই গ্যাস ওজোন স্তরের সরাসরি ক্ষতি করে না, তবে এর তাপ ধরে রাখার ক্ষমতা কার্বন ডাই অক্সাইডের চেয়ে কয়েক হাজার গুণ বেশি। ফলে এটি পৃথিবীকে দ্রুত তপ্ত করে তুলছে।
কঠোর সময়সীমা ও বিধিনিষেধ
কেন্দ্রীয় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রকের (MoEFCC) সাম্প্রতিক মেমোরেন্ডাম অনুযায়ী পরিবেশ রক্ষার এই লড়াইয়ে কিছু নির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে:
- ২০২৭ সালের ৩১ ডিসেম্বরের পর এইচএফসি উৎপাদনের জন্য আর কোনো নতুন পরিবেশগত ছাড়পত্র দেওয়া হবে না।
- যারা ইতিমধ্যে আবেদন করেছেন, তাদের হলফনামা দিয়ে জানাতে হবে যে ২০২৭ সালের মধ্যে তাদের প্ল্যান্টে উৎপাদন শুরু হয়ে যাবে।
- ২০৩২ সালের মধ্যে এই গ্যাসের উৎপাদন ১০ শতাংশে এবং ২০৪৭ সালের মধ্যে ৮৫ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
প্রভাবিত অঞ্চল ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
এই সিদ্ধান্তের ফলে মূলত গুজরাট এবং মহারাষ্ট্রের প্রায় ২০০টি উৎপাদন ইউনিটের ওপর প্রভাব পড়বে। তবে সরকার চাইছে ন্যাশনাল কুলিং অ্যাকশন প্ল্যানের (NCAP) সহায়তায় শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোকে পরিবেশবান্ধব বিকল্প প্রযুক্তির দিকে নিয়ে যেতে।
আর্থিক ও স্বাস্থ্যগত সুফল
পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি এই সিদ্ধান্ত ভারতের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, গ্রিন হাউস গ্যাসের নিঃসরণ কমানোর ফলে ২০৪০ সালের মধ্যে স্বাস্থ্য এবং জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ক্ষয়ক্ষতি বাবদ প্রায় ১.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার সাশ্রয় করা সম্ভব হবে।
একঝলকে
- ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে নতুন এইচএফসি উৎপাদন ইউনিট নিষিদ্ধ।
- ২০৪৭ সালের মধ্যে এই গ্যাসের ব্যবহার ৮৫ শতাংশ কমানোর লক্ষ্যমাত্রা।
- এই সিদ্ধান্তের ফলে স্বাস্থ্য ও পরিবেশ খাতে ১.৫ বিলিয়ন ডলার সাশ্রয়ের সম্ভাবনা।
- বর্তমান উৎপাদনকারীদের ২০২৭ সালের মধ্যে কাজ শুরুর বাধ্যবাধকতা।
- মূলত এসি ও রেফ্রিজারেটর শিল্পে এই পরিবর্তন কার্যকর হবে।