ভাঙড়ে তৃণমূলের বড় ভাঙন, ভোটার তালিকা নিয়ে হাইকোর্টে নওশাদ

ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ভাঙড়ে বড়সড় রাজনৈতিক রদবদল ঘটল। সোমবার তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণা দিয়েছেন দাপুটে নেতা আরাবুল ইসলাম। দলত্যাগের সময় আবেগপ্রবণ হয়ে তিনি জানান, সিঙ্গুর ও নন্দীগ্রাম আন্দোলনের সময় থেকে নেত্রীর পাশে থাকলেও বর্তমানে দলে তিনি অবহেলিত। আরাবুলের এই সিদ্ধান্ত দক্ষিণ ২৪ পরগনার রাজনৈতিক সমীকরণে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।
অন্যদিকে আসাম্পূর্ণ ভোটার তালিকা নিয়ে সরব হয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকি। তাঁর দাবি, প্রায় ৬০ লক্ষ ভোটারের নাম এখনও ‘বিবেচনাধীন’ তালিকায় রয়েছে। এই বিশাল সংখ্যক মানুষ যাতে তাঁদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সেই মর্মে কমিশনের বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণের আর্জি জানিয়েছেন তিনি। নির্বাচনের প্রাক্কালে এই আইনি পদক্ষেপ কমিশনের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করতে পারে।
আগামী ২৩ ও ২৯ এপ্রিল রাজ্যে দুই দফায় ভোট গ্রহণ করা হবে। ভোট শুরুর আগেই আরাবুলের বিদ্রোহ এবং নওশাদের আইনি লড়াইয়ে দক্ষিণবঙ্গের রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে ভাঙড়। একদিকে শাসকদলের ঘরোয়া ভাঙন আর অন্যদিকে ভোটারদের অধিকার রক্ষার লড়াই— এই দ্বিমুখী টানাপোড়েন আগামী ৪ মে ফলপ্রকাশের দিনে কী প্রতিফলন ঘটায়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।