ভাঙড়ে দাগী আসামিদের জায়গা নেই, মনোনয়নপত্র জমা দিয়েই শওকতকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ নওশাদের

দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড়ে বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বাজতেই রাজনৈতিক পারদ চড়তে শুরু করেছে। শনিবার মনোনয়নপত্র জমা দিয়েই তৃণমূলের দোর্দণ্ডপ্রতাপ নেতা শওকত মোল্লাকে নাম না করে তীব্র আক্রমণ শানালেন আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকী। তাঁর সাফ বার্তা, ভাঙড়ের সাধারণ মানুষ আর কোনো ‘দাগী আসামিকে’ জনপ্রতিনিধি হিসেবে দেখতে চায় না। এলাকার ভোটাররা ব্যালট বক্সেই এর যোগ্য জবাব দেবে বলে নওশাদ দাবি করেন। গত নির্বাচনের স্মৃতি উস্কে তিনি জানান, ২০২১ সালের চেয়ে ২০২৬-এর লড়াই অনেক সহজ এবং এবার তৃণমূলের কোনো কারচুপি কাজে আসবে না।
নির্বাচনী প্রচারে সুর চড়িয়ে নওশাদ বলেন, গতবার তাঁকে জেতার পর সার্টিফিকেট ছিঁড়ে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু তিনি নিচুতলার রাজনীতিতে বিশ্বাস করেন না। দেউলি ১ গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান হাফিজুল মোল্লার গ্রেফতারি প্রসঙ্গে তাঁর মন্তব্য, এই ধরনের অপরাধীরা জেলের ভেতরে থাকলেই ভাঙড়ে শান্তিপূর্ণ ভোট সম্ভব। নওশাদ স্পষ্ট করে দেন যে, তাঁর লড়াই কোনো ব্যক্তি বিশেষের বিরুদ্ধে নয়, বরং তৃণমূল নেত্রীর দুর্নীতির বিরুদ্ধে। ভাঙড়কে চিরতরে অশান্তিমুক্ত করার অঙ্গীকার নিয়ে তিনি এবারের নির্বাচনী ময়দানে অবতীর্ণ হয়েছেন।
তৃণমূলের পাশাপাশি বিজেপিকেও কড়া ভাষায় নিশানা করেছেন এই আইএসএফ নেতা। বিজেপিকে ‘সাম্প্রদায়িক’ ও তৃণমূলকে ‘দুর্নীতিগ্রস্ত’ আখ্যা দিয়ে তিনি দেশ ও রাজ্য রক্ষার ডাক দেন। মনোনয়ন জমা দেওয়ার পর বিপুল কর্মী-সমর্থকদের উপস্থিতিতে নওশাদ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে দাবি করেন, এবারের নির্বাচনে আইএসএফ অন্তত ৩০টি আসনে জয়লাভ করবে এবং বাংলার রাজনীতিতে নির্ণায়ক শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে। শওকত মোল্লাকে গুরুত্বহীন বলে উড়িয়ে দিয়ে নওশাদের এই আক্রমণাত্মক মেজাজ ভাঙড়ের রাজনৈতিক সমীকরণকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে।