ভাঙড়ে দাগী আসামিদের জায়গা নেই ,শওকত মোল্লাকে সরাসরি নিশানা করে হুঙ্কার নওশাদ সিদ্দিকীর
বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বাজতেই রাজনৈতিক উত্তাপে ফুটছে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড়। শনিবার মনোনয়নপত্র জমা দিয়েই তৃণমূল কংগ্রেসের প্রভাবশালী নেতা শওকত মোল্লাকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করলেন আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকী। তাঁর সাফ দাবি, ভাঙড়ের সাধারণ মানুষ আর কোনো ‘দাগী আসামিকে’ জনপ্রতিনিধি হিসেবে দেখতে চায় না এবং আসন্ন নির্বাচনে ব্যালট বক্সেই এর যোগ্য জবাব দেবে জনতা। ভাঙড়কে চিরতরে অশান্তিমুক্ত করার অঙ্গীকার করে তিনি জানান, হাফিজুল মোল্লার মতো ব্যক্তিদের জেলেই থাকা উচিত, কারণ তারা জেলের ভেতরে থাকলে তবেই এলাকায় শান্তিপূর্ণ ভোট সম্ভব।
এবারের লড়াই ২০২১ সালের তুলনায় অনেক সহজ উল্লেখ করে নওশাদ বলেন, গত নির্বাচনে প্রতিকূলতা বেশি থাকলেও এবার পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। শওকত মোল্লার পুরনো মন্তব্যের পাল্টা দিয়ে তিনি জানান, কারোর নামে নিম্নমানের রাজনীতিতে তিনি বিশ্বাসী নন। পাশাপাশি লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূলের বিরুদ্ধে ভোট চুরির অভিযোগ তুলে তিনি দাবি করেন, এবার আর কারচুপির কোনো সুযোগ মিলবে না। নওশাদের মতে, তাঁর এই লড়াই কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে নয়, বরং সরাসরি তৃণমূল নেত্রীর দুর্নীতির বিরুদ্ধে।
মনোনয়ন পেশের দিন বিজেপি এবং তৃণমূল উভয় পক্ষকেই তীব্র আক্রমণ করেন নওশাদ সিদ্দিকী। বিজেপিকে ‘সাম্প্রদায়িক’ এবং তৃণমূলকে ‘দুর্নীতিগ্রস্ত’ আখ্যা দিয়ে তিনি দেশ ও রাজ্য রক্ষার ডাক দেন। ব্যাপক কর্মী-সমর্থকদের ভিড়ে দাঁড়িয়ে তিনি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে দাবি করেন, এবারের নির্বাচনে আইএসএফ অন্তত ৩০টি আসনে জয়লাভ করে বাংলার রাজনীতিতে নির্ণায়ক ভূমিকা পালন করবে। শওকত মোল্লাকে গুরুত্বহীন সাব্যস্ত করে নওশাদের এই আক্রমণাত্মক মেজাজ ভোটের আগে ভাঙড়ের রাজনৈতিক সমীকরণকে আরও জটিল করে তুলেছে।