ভাঙড়ে নওশাদ সিদ্দিকীর দুর্গে বড় ধস, তৃণমূলের মাস্টারস্ট্রোকে কোণঠাসা আইএসএফ

নিজস্ব প্রতিনিধি, ভাঙড়
পশ্চিমবঙ্গের হাই-ভোল্টেজ বিধানসভা কেন্দ্র ভাঙড়ে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বাজার আগেই ওলটপালট হয়ে গেল সমস্ত রাজনৈতিক সমীকরণ। ২০২১ সালে যে ভাঙড় নওশাদ সিদ্দিকীর হাত ধরে আইএসএফ-এর (ISF) শক্ত ঘাঁটিতে পরিণত হয়েছিল, সেই দুর্গে এবার বড়সড় ফাটল ধরাল ঘাসফুল শিবির। নওশাদ সিদ্দিকীর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ও প্রভাবশালী আইএসএফ নেতা হযরত মোল্লা সপরিবারে এবং কয়েক’শ অনুগামী নিয়ে নাম লেখালেন তৃণমূল কংগ্রেসে (TMC)।
শওকত মোল্লার হাত ধরে ভাঙড়ে বড় পটপরিবর্তন
ভাঙড় বিধানসভার নারায়ণপুর অঞ্চলের দাপুটে নেতা হিসেবে পরিচিত হযরত মোল্লা। সোমবার ঘটকপুকুর পার্টি অফিসে ক্যানিং পূর্বের বিধায়ক তথা ভাঙড়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত তৃণমূল নেতা শওকত মোল্লার হাত থেকে তৃণমূলের পতাকা তুলে নেন তিনি। এই যোগদান যে নওশাদ সিদ্দিকীর দলের জন্য এক বিশাল ধাক্কা, তা রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন। পতাকা হাতে তুলে দিয়ে শওকত মোল্লা কড়া সুরে বলেন, “গত পাঁচ বছরে ভাঙড়ে কোনো উন্নয়ন হয়নি। নওশাদ সিদ্দিকী শুধু বড় বড় কথা বলে গিয়েছেন। মানুষ এখন বুঝতে পারছে যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উন্নয়নের বিকল্প নেই। তাই কোনো চাপে নয়, বরং উন্নয়নের টানেই হযরত মোল্লা আমাদের সাথে যোগ দিয়েছেন।”
পাল্টা হুঁশিয়ারি আইএসএফ শিবিরের
ঘরের লোক তৃণমূলে যোগ দিতেই সুর চড়িয়েছে আইএসএফ নেতৃত্ব। দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হযরত মোল্লা দীর্ঘদিন ধরেই দলবিরোধী কাজে লিপ্ত ছিলেন। এমনকি তাঁকে আগে থেকেই শোকজ (Showcause) করা হয়েছিল। তাই তিনি দল ছাড়ায় সংগঠনের ওপর কোনো প্রভাব পড়বে না বলেই দাবি নওশাদ অনুগামীদের। তবে রাজনৈতিক মহলের মতে, নির্বাচনের আগে স্থানীয়স্তরের নেতাদের দলবদল আইএসএফ-এর ভিত নড়বড়ে করে দিতে পারে।
২০২৬-এর লড়াইয়ে অ্যাডভান্টেজ তৃণমূল
ভাঙড় পুনর্দখল করতে তৃণমূল যে মরিয়া, তা শওকত মোল্লার প্রতিটি পদক্ষেপে স্পষ্ট। একদিকে নওশাদ সিদ্দিকীর ক্যারিশমা ধরে রাখার লড়াই, অন্যদিকে তৃণমূলের হারানো জমি ফিরে পাওয়ার জেদ— সব মিলিয়ে আগামী দিনে ভাঙড়ের রাজনীতি যে আরও উত্তপ্ত হতে চলেছে, হযরত মোল্লার এই দলবদল তারই ইঙ্গিত দিচ্ছে।