ভাঙড়ে বারুদের গন্ধে ভোটের হাওয়া! কেন্দ্রীয় বাহিনী কি পারবে হিংসার ইতি টানতে

নিউজ ডেস্ক: পঞ্চায়েত থেকে বিধানসভা—ভোটের বাদ্যি বাজলেই ভাঙড়ের বাতাসে মেশে বারুদের গন্ধ। একুশের বিধানসভা নির্বাচন হোক বা গত পঞ্চায়েত ভোট, মনোনয়ন থেকে গণনা পর্যন্ত গুলি-বোমায় তটস্থ ছিল দক্ষিণ ২৪ পরগণার এই জনপদ। এবার ফের দোরগোড়ায় বিধানসভা নির্বাচন। নির্বাচন কমিশন রাজ্যে হিংসামুক্ত ভোটের অঙ্গীকার করলেও বাস্তবে কি ছবিটা বদলাবে? ভাঙড়ের অলিতে-গলিতে এখন কেন্দ্রীয় বাহিনীর বুটের আওয়াজ আর রুট মার্চ। কিন্তু তাতেও কি কমছে আতঙ্ক?
দিনকয়েক আগেই দেওয়াল লিখনকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় ভাঙড়। আইএসএফ ও তৃণমূলের সংঘর্ষে চলে ইটবৃষ্টি, ভাঙচুর করা হয় বাইক। পরিস্থিতি সামাল দিতে বিশাল পুলিশবাহিনী মোতায়েন করতে হয়। এমনকি চালতাবেড়িয়া এলাকায় ভয়াবহ বিস্ফোরণে একজনের মৃত্যুর খবরও সামনে এসেছে। গতকাল তৃণমূল প্রার্থীর গাড়িতে হামলার অভিযোগ উঠেছে আইএসএফের বিরুদ্ধে, চলেছে অবাধে বোমাবাজি। নওশাদ সিদ্দিকী বনাম শওকত মোল্লা গোষ্ঠীর দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক লড়াই এবার নতুন মাত্রা পেয়েছে।
২০২১ সালে সিপিএমের সঙ্গে জোট করে ভাঙড় দখল করেছিল নওশাদ সিদ্দিকীর আইএসএফ। এবার নওশাদ নিজে প্রার্থী হওয়ার পাশাপাশি তৃণমূলত্যাগী প্রাক্তন বিধায়ক আরাবুল ইসলামকে ক্যানিং পূর্বে লড়াইয়ে নামিয়ে জমি শক্ত করতে চাইছে আব্বাসের দল। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রার্থী তালিকা প্রকাশের পর থেকেই এলাকায় নতুন করে অশান্তি মাথাচাড়া দিচ্ছে। প্রশ্ন একটাই, অতীতের সেই রক্তাক্ত ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি কি রুখতে পারবে কমিশন? নাকি ফের বোমার শব্দেই নির্ধারিত হবে ভাঙড়ের ভাগ্য?