ভারতের জন্য বড় স্বস্তি, হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করল এলপিজি ট্যাঙ্কার গ্রিন সানভি

পশ্চিম এশিয়ার উত্তপ্ত পরিস্থিতির মাঝেই ভারতের জন্য এল এক স্বস্তির খবর। হরমুজ প্রণালীর বাধা কাটিয়ে ৪৪ হাজার মেট্রিক টন এলপিজি নিয়ে সফলভাবে এগিয়ে চলেছে ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজ ‘গ্রিন সানভি’। শুক্রবার জাহাজটি এই গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথটি অতিক্রম করেছে এবং আগামী ৬ এপ্রিলের মধ্যে মুম্বাই বন্দরে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
মার্চ মাসে গ্রিন সানভি সপ্তম ভারতীয় জাহাজ হিসেবে এই বিপজ্জনক জলপথ পার হতে সক্ষম হয়েছে। যদিও এখনও ভারতের বেশ কিছু তেল ও গ্যাসবাহী জাহাজ ইরানি ছাড়পত্রের অপেক্ষায় সেখানে আটকে রয়েছে। জাহাজ ট্র্যাকিং ডেটা অনুযায়ী, গ্রিন সানভি পারস্য উপসাগরে অপেক্ষমাণ থাকার পর ইরানের জলসীমা হয়ে পূর্ব দিকে অগ্রসর হয় এবং বর্তমানে মুম্বাইয়ের উদ্দেশ্যে যাত্রা করছে।
জাহাজে থাকা ৪৪ হাজার মেট্রিক টন এলপিজি বর্তমানে ভারতের চাহিদার নিরিখে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের কারণে সরবরাহ ব্যবস্থায় যে ঘাটতি তৈরি হয়েছে, এই এলপিজি তার মোকাবিলায় সাহায্য করবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে আরও দুটি এলপিজি ট্যাঙ্কার ‘গ্রিন আশা’ এবং ‘জগ বিক্রম’ একইভাবে ভারত পৌঁছাবে বলে সম্ভাবনা রয়েছে।
ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনার আবহে ইরান বর্তমানে হরমুজ প্রণালীতে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে এবং নির্দিষ্ট টোল আদায় করছে। তবে ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক থাকায় ভারতীয় জাহাজগুলিকে বিশেষ ছাড় দেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে পারস্য উপসাগরের পূর্ব দিকে ভারতের ১৭টি জাহাজ অবস্থান করছে। ভারতীয় জাহাজগুলোর নিরাপদ যাতায়াতের জন্য দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক স্তরে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
সম্প্রতি ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি স্পষ্ট করেছেন যে, চীন, রাশিয়া, ভারত, ইরাক এবং পাকিস্তানের মতো বন্ধু দেশগুলির জাহাজগুলো ইরানি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে হরমুজ প্রণালী ব্যবহার করতে পারবে। তবে আমেরিকা, ইসরায়েল এবং তাদের সহযোগী দেশগুলোর জাহাজের জন্য এই পথ বর্তমানে বন্ধ রয়েছে। এই কূটনৈতিক শিথিলতার ফলেই ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে।