ভারতের নিজস্ব ‘আয়রন ডোম’! উত্তরপ্রদেশে তৈরি হচ্ছে আকাশছোঁয়া সুরক্ষা কবচ, কাঁপবে শত্রুপক্ষ

দেশের আকাশসীমা সুরক্ষিত করতে এক বৈপ্লবিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে ভারত। ইসরায়েলের আদলে নিজস্ব ‘আয়রন ডোম’ বা প্রতিরক্ষা কবচ তৈরির কাজ শুরু হয়েছে উত্তরপ্রদেশের মাটিতে। শক্রুপক্ষের ড্রোন, ক্রুজ মিসাইল এবং যুদ্ধবিমানকে মাঝ আকাশেই ধ্বংস করতে সক্ষম এই অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ভারতের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় নতুন এক দিগন্তের সূচনা করবে। রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা ভারত ইলেকট্রনিক্স লিমিটেড (BEL) এই উচ্চাকাঙ্ক্ষী প্রকল্পটি বাস্তবায়নে মূল ভূমিকা পালন করছে।
উত্তরপ্রদেশের চিত্রকুটে বিশাল কারখানা
প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদনের লক্ষ্যে উত্তরপ্রদেশ ডিফেন্স ইন্ডাস্ট্রিয়াল করিডোরকে বেছে নেওয়া হয়েছে। চিত্রকূটে প্রায় ৭৫ হেক্টর জমি এই প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে। উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ নিজেই ভারত ইলেকট্রনিক্স লিমিটেডের সিএমডি মনোজ জৈনের হাতে জমির নথিপত্র তুলে দিয়েছেন। এখানে পরবর্তী প্রজন্মের মিসাইল, উন্নত রাডার সিস্টেম এবং দেশীয় আয়রন ডোম তৈরির পরিকাঠামো গড়ে তোলা হবে।
৬০০ কোটি টাকার মেগা বিনিয়োগ
এই প্রকল্পের প্রাথমিক পর্যায়ে প্রায় ৫৬২.৫ কোটি টাকা থেকে ৬০০ কোটি টাকা বিনিয়োগের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এখানে কেবল সমরাস্ত্র তৈরিই নয়, বরং রক্ষণাবেক্ষণ এবং মেরামতির (MRO) সুবিধাও থাকবে। মূলত ‘কুইক রিঅ্যাকশন সারফেস-টু-এয়ার মিসাইল’ (QRSAM) এবং ‘কুশা’ এয়ার ডিফেন্স সিস্টেমের মতো শক্তিশালী অস্ত্রগুলো এখানেই উৎপাদিত হবে।
কী এই প্রজেক্ট কুশা
ডিআরডিও (DRDO) দ্বারা উদ্ভাবিত ‘প্রজেক্ট কুশা’ হলো ভারতের দীর্ঘপাল্লার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। এটি স্টিলথ ফাইটার জেট এবং ড্রোন শনাক্ত করে ধ্বংস করতে সক্ষম। তিন স্তরের এই সুরক্ষা বলয় প্রায় ৪০০ কিলোমিটার দূরত্ব পর্যন্ত লক্ষ্যবস্তুকে আঘাত করতে পারে। এর কার্যকারিতা রাশিয়ার বিখ্যাত S-400 মিসাইল সিস্টেমের চেয়েও উন্নত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তিনটি স্তরের শক্তিশালী মিসাইল ব্যবস্থা
২০২৮-২৯ সালের মধ্যে এই দেশীয় আয়রন ডোম সম্পূর্ণভাবে প্রস্তুত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে তিন ধরনের মিসাইল ব্যবহার করা হবে:
- M1 মিসাইল: এটি ১৫০ কিলোমিটার পাল্লার মধ্যে লক্ষ্যবস্তুকে ধ্বংস করবে।
- M2 মিসাইল: এর কার্যকারিতা থাকবে ২৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত।
- M3 মিসাইল: এটি ৩৫০ থেকে ৪০০ কিলোমিটার দূরের শত্রুকে প্রতিহত করতে সক্ষম।
অর্থনৈতিক ও কৌশলগত প্রভাব
এই প্রকল্পের ফলে উত্তরপ্রদেশ ভারতের অন্যতম বড় প্রতিরক্ষা উৎপাদন কেন্দ্রে পরিণত হতে চলেছে। এটি কেবল দেশের সীমান্তকে নিশ্ছিদ্র করবে না, পাশাপাশি স্থানীয় ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (MSME) খাতের বিকাশে এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বড় ভূমিকা রাখবে। বিদেশি অস্ত্রের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে স্বনির্ভর হওয়ার পথে এটি ভারতের এক বিশাল অর্জন।
একঝলকে
- প্রকল্পের নাম: ভারতের নিজস্ব আয়রন ডোম (প্রজেক্ট কুশা)।
- অবস্থান: চিত্রকূট, উত্তরপ্রদেশ।
- তৈরির দায়িত্ব: ভারত ইলেকট্রনিক্স লিমিটেড (BEL) ও ডিআরডিও।
- বিনিয়োগ: প্রায় ৬০০ কোটি টাকা।
- সুরক্ষা সীমা: ৪০০ কিলোমিটার পর্যন্ত তিন স্তরের সুরক্ষা।
- লক্ষ্যমাত্রা: ২০২৮-২৯ সালের মধ্যে কাজ সম্পন্ন করা।