ভারতের ‘নিজস্ব সূর্য’! পরমাণু শক্তিতে এবার বিশ্বসেরা ভারত; আমেরিকা-চীনকেও পেছনে ফেললেন দেশীয় বিজ্ঞানীরা!

ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তার ইতিহাসে এক বৈপ্লবিক অধ্যায় শুরু হলো। তামিলনাড়ুর কলাপক্কমে অবস্থিত প্রোটোটাইপ ফাস্ট ব্রিডার রিঅ্যাক্টর (PFBR) সফলভাবে তার ‘ক্রিটিকাল’ ধাপ সম্পন্ন করেছে। এর মাধ্যমে পরমাণু শক্তিতে বিশ্বের হাতেগোনা কয়েকটি দেশের তালিকায় নিজেদের অবস্থান আরও সুসংহত করল ভারত। এই সাফল্যের ফলে এখন থেকে পারমাণবিক বর্জ্য ব্যবহার করেই বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হবে।
কেন এই সাফল্য অনন্য
সাধারণ পারমাণবিক রিঅ্যাক্টরে জ্বালানি হিসেবে ইউরেনিয়াম ব্যবহার করা হয়, যা থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পর প্লুটোনিয়াম নামক বর্জ্য তৈরি হয়। ভারতের ইউরেনিয়াম মজুত সীমিত হওয়ায় এতকাল আমদানির ওপর নির্ভর করতে হতো। তবে কলাপক্কমের এই নতুন ফাস্ট ব্রিডার রিঅ্যাক্টরটির বিশেষত্ব হলো এটি সেই বর্জ্য বা প্লুটোনিয়ামকেই পুনরায় জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করতে সক্ষম।
প্রযুক্তির চমক: জ্বালানি নিজেই তৈরি করবে বিদ্যুৎ
এই প্রযুক্তির নাম ‘ব্রিডার’ দেওয়ার কারণ হলো এটি যে পরিমাণ জ্বালানি খরচ করে, তার চেয়ে বেশি জ্বালানি উৎপাদন করতে পারে।
- স্বয়ংক্রিয় জ্বালানি উৎপাদন: রিঅ্যাক্টরটি চলার সময় একদিকে বিদ্যুৎ উৎপাদন করবে, অন্যদিকে ভবিষ্যতের জন্য প্রয়োজনীয় জ্বালানিও তৈরি করে রাখবে।
- আমদানি নির্ভরতা হ্রাস: এর ফলে ইউরেনিয়াম আমদানির জন্য আর অন্য কোনো দেশের মুখাপেক্ষী হতে হবে না।
- উৎপাদন ক্ষমতা: প্রাথমিক পর্যায়ে এই প্রকল্পের মাধ্যমে ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
হোমি ভাবার স্বপ্ন পূরণ ও তিন স্তরের পরিকল্পনা
ভারতের পরমাণু কর্মসূচির জনক ড. হোমি জাহাঙ্গীর ভাবা তিন স্তরের যে রূপরেখা দিয়েছিলেন, কলাপক্কমের এই সাফল্য তার দ্বিতীয় স্তরকে পূর্ণতা দিল।
১. প্রথম স্তর: ইউরেনিয়াম ব্যবহার করে বিদ্যুৎ ও প্লুটোনিয়াম তৈরি।
২. দ্বিতীয় স্তর: প্লুটোনিয়াম বর্জ্য ব্যবহার করে আরও বেশি বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উৎপাদন (যা বর্তমানে সফল হয়েছে)।
৩. তৃতীয় স্তর: ভারতের বিশাল থোরিয়াম মজুতকে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা।
কেরল, তামিলনাড়ু ও ওড়িশার সমুদ্র উপকূলে বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম থোরিয়াম মজুত রয়েছে। ফাস্ট ব্রিডার রিঅ্যাক্টর প্রযুক্তি সফল হওয়ায় এখন থোরিয়ামকে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহারের পথ প্রশস্ত হলো। এটি বাস্তবায়িত হলে আগামী কয়েক শতাব্দী পর্যন্ত ভারতের বিদ্যুৎ চাহিদা মেটাতে অন্য কোনো শক্তির প্রয়োজন হবে না।
একঝলকে
- স্থান: প্রোটোটাইপ ফাস্ট ব্রিডার রিঅ্যাক্টর (PFBR), কলাপক্কম, তামিলনাড়ু।
- সাফল্য: ২০২৬ সালের ৬ এপ্রিল রাত ৮:২৫ মিনিটে রিঅ্যাক্টরটি সফলভাবে ‘ক্রিটিকাল’ পর্যায়ে পৌঁছায়।
- ক্ষমতা: ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা।
- বিশেষত্ব: পারমাণবিক বর্জ্যকে জ্বালানি হিসেবে পুনরায় ব্যবহারের সক্ষমতা অর্জন।
- ভবিষ্যৎ লক্ষ্য: দেশের বিশাল থোরিয়াম ভাণ্ডারকে কাজে লাগিয়ে জ্বালানিতে পূর্ণ স্বনির্ভরতা।