ভারতের ‘মিল্ক রিভার’ বা দুধ নদীর আসল রহস্য কী এবং কেন এই নদী বিজ্ঞানীদের কাছে বিস্ময়

দক্ষিণ ভারতের প্রাকৃতিক ও ভৌগোলিক বৈচিত্র্যের মধ্যে অন্যতম এক আকর্ষণ হলো পালার নদী, যা অনেকের কাছে ‘মিল্ক রিভার অব ইন্ডিয়া’ নামে পরিচিত। কর্ণাটক, অন্ধ্রপ্রদেশ এবং তামিলনাড়ু—এই তিন রাজ্যের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত এই নদীকে ঘিরে রয়েছে নানা চমকপ্রদ তথ্য এবং ঐতিহাসিক গুরুত্ব।
পালার নামের রহস্য ও ভাষাগত উৎস
এই নদীর নামের পেছনে কোনো অলৌকিক ঘটনা নেই, বরং লুকিয়ে আছে তামিল ভাষার গভীর অর্থ। তামিল শব্দ ‘পাল’ মানে দুধ এবং ‘আরু’ মানে নদী। এই দুই শব্দের সমন্বয়েই তৈরি হয়েছে ‘পালার’ নামটি। যদিও বর্ষাকালে এই নদীর জলের ফিকে রঙ অনেকটা দুধের মতো দেখায়, যা এই নামটিকে আরও সার্থক করে তুলেছে।
উৎপত্তি ও প্রবাহপথ
নদীটি কর্ণাটকের চিক্কাবল্লাপুর জেলার নন্দী পাহাড় থেকে উৎপন্ন হয়েছে। প্রায় ৩৪৮ কিলোমিটার দীর্ঘ এই পথ অতিক্রম করে নদীটি তামিলনাড়ুর কালপাক্কমের কাছে বঙ্গোপসাগরে গিয়ে মিশেছে। কর্ণাটকে ৯৩ কিলোমিটার, অন্ধ্রপ্রদেশে ৩৩ কিলোমিটার এবং তামিলনাড়ুতে ২২২ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে এই নদীর বিস্তার।
বিজ্ঞানীদের কাছে কেন এটি বিস্ময়
পালার নদী কেবল তার নামের জন্য নয়, বরং তার অনন্য বৈশিষ্ট্যের জন্য গবেষকদের নজর কেড়েছে। এই নদীর একটি বড় অংশ মাটির গভীর বালির স্তরের নীচ দিয়ে ভূগর্ভস্থভাবে প্রবাহিত হয়। এই বালিময় তলদেশ প্রাকৃতিক স্পঞ্জের মতো কাজ করে পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের ভূগর্ভস্থ জলের স্তর বজায় রাখতে সাহায্য করে। এছাড়া ভূতত্ত্ববিদদের মতে, প্রাচীনকালে কাবেরী নদীর প্রবাহপথ সম্ভবত এই পালার অঞ্চলের মধ্য দিয়েই ছিল, যা পরবর্তীকালে টেকটোনিক পরিবর্তনের কারণে আলাদা হয়ে যায়।
অর্থনৈতিক ও ঐতিহাসিক গুরুত্ব
একসময় বিখ্যাত কোলার গোল্ড ফিল্ডস বা কেজিএফ অঞ্চলের সোনার খনিগুলোর জলের প্রধান উৎস ছিল এই পালার নদী। ১৮৯২ সালের জল-বণ্টন চুক্তি অনুযায়ী আজও কর্ণাটক, অন্ধ্রপ্রদেশ ও তামিলনাড়ুর মধ্যে এই নদীর জল ভাগ করা হয়। উল্লেখযোগ্য কোনো বড় উপনদী না থাকলেও বর্ষার বৃষ্টির জলই এই নদীর মূল প্রাণশক্তি। এর তলদেশে পাওয়া ‘আর্কোজ’ জাতীয় রাসায়নিক অবক্ষেপ দক্ষিণ ভারতের অন্যান্য নদীর তুলনায় একে অনন্য করে তুলেছে।