ভারতের ‘ম্যাঙ্গো সিটি’ মালদা ৯৯ শতাংশ মানুষের ভুল ভাঙিয়ে সেরার মুকুটে পশ্চিমবঙ্গ

ভারতবর্ষে আম কেবল একটি ফল নয়, বরং সংস্কৃতি ও অর্থনীতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। ল্যাংড়া, হিমসাগর থেকে আলফানসো—নানা জাতের সমারোহে গ্রীষ্মকাল মুখর থাকলেও সাধারণ জ্ঞানের একটি প্রশ্নে অনেকেই বিভ্রান্ত হন। ভারতের আসল ‘ম্যাঙ্গো সিটি’ বা আমের শহর কোনটি, তা নিয়ে জনমানসে ভিন্ন মত থাকলেও ঐতিহাসিকভাবে পশ্চিমবঙ্গের মালদা জেলা এই অনন্য গৌরবের অধিকারী। অধিকাংশ মানুষ উত্তরপ্রদেশ বা অন্য রাজ্যকে এগিয়ে রাখলেও উৎপাদনের গুণমান ও বৈচিত্র্যে মালদাই শ্রেষ্ঠ।
পশ্চিমবঙ্গের এই জেলাটি ফজলি, ল্যাংড়া, হিমসাগর এবং লক্ষ্মণভোগের মতো বিশ্বখ্যাত আমের প্রধান কেন্দ্র। বিশেষত ফজলি ও লক্ষ্মণভোগ আম জিআই ট্যাগপ্রাপ্ত হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে মালদার গুরুত্ব অপরিসীম। প্রতি বছর এখান থেকে বিপুল পরিমাণ আম মধ্যপ্রাচ্য, যুক্তরাজ্য এবং বাংলাদেশে রপ্তানি করা হয়। সুপ্রাচীনকাল থেকেই এই জনপদ আম চাষের জন্য বিখ্যাত, যা বর্তমানে স্থানীয় হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের প্রধান উৎস এবং অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি।
মালদার আমের জনপ্রিয়তা কেবল স্বাদেই নয়, বরং এর বৈচিত্র্যেও অনন্য। গোলাপভোগ থেকে খিরসাপাতি—প্রতিটি প্রজাতির নিজস্ব সুগন্ধ ও মিষ্টতা রয়েছে। যদিও বেনারসের ল্যাংড়া বা উত্তরপ্রদেশের সাহারণপুর আম উৎপাদনের জন্য পরিচিত, কিন্তু সামগ্রিক উৎপাদন এবং রপ্তানি যোগ্যতায় মালদাই ‘ম্যাঙ্গো সিটি’ হিসেবে স্বীকৃত। তাই প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা বা সাধারণ জ্ঞানের ক্ষেত্রে সঠিক উত্তর হিসেবে মালদাকেই গণ্য করা হয়, যা বিশ্বমঞ্চে ভারতের আম্র-সংস্কৃতিকে সগৌরবে তুলে ধরছে।