ভারতের ‘শেষ রাস্তা’: ধনুষ্কোটি থেকে আরিচল মুনাইয়ের রোমাঞ্চকর যাত্রা

তামিলনাড়ুর রামেশ্বরম থেকে শুরু হওয়া জাতীয় সড়ক ৮৭-এর শেষ অংশটি ভারতের মূল ভূখণ্ডের ‘শেষ রাস্তা’ হিসেবে পরিচিত। এই পথটি পরিত্যক্ত শহর ধনুষ্কোটি হয়ে সমুদ্রের কোল ঘেঁষে আরিচল মুনাইয়ে গিয়ে মিশেছে। রাস্তার একপাশে বঙ্গোপসাগর এবং অন্যপাশে ভারত মহাসাগরের গর্জন পর্যটকদের এক অনন্য ও রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতার স্বাদ দেয়। পরিষ্কার আবহাওয়ায় এখান থেকে শ্রীলঙ্কার উপকূলভাগও অস্পষ্টভাবে দেখা যায়।
ভৌগোলিক গুরুত্বের পাশাপাশি এই স্থানটির গভীর ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় তাৎপর্য রয়েছে। রামায়ণ অনুসারে, এখান থেকেই লঙ্কায় যাওয়ার জন্য ‘রাম সেতু’ নির্মাণ শুরু হয়েছিল। একসময় এটি একটি ব্যস্ত বন্দর শহর থাকলেও ১৯৬৪ সালের বিধ্বংসী ঘূর্ণিঝড় ধনুষ্কোটিকে জনশূন্য করে দেয়। বর্তমানে এখানকার রেল স্টেশন ও ডাকঘরের ধ্বংসাবশেষগুলি একটি সমৃদ্ধ জনপদের হারিয়ে যাওয়ার নীরব সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।
প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং রহস্যের মিশেলে এই ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ পথটি বর্তমানে ভ্রমণপিপাসুদের অন্যতম আকর্ষণ। বালুকাময় প্রান্তরে যেখানে ভারতের সীমানা শেষ হয়ে অনন্ত জলরাশি শুরু হয়েছে, সেই বিন্দুটি আজও অভিযাত্রী ও তীর্থযাত্রীদের সমানভাবে মুগ্ধ করে। দুই সমুদ্রের মাঝখান দিয়ে যাওয়া এই দৃষ্টিনন্দন রাজপথটি ভারতের অন্যতম মনোরম উপকূলীয় পথ হিসেবে স্বীকৃত।