ভারতে বাড়ছে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের প্রবণতা, গ্লিডেন অ্যাপে গ্রাহক সংখ্যা ৪০ লক্ষ পার

ভারতের ব্যস্ত নাগরিক জীবনে দিন দিন বাড়ছে ডেটিং অ্যাপের প্রভাব। তবে সাধারণ ডেটিং প্ল্যাটফর্মের চেয়ে কিছুটা আলাদা পথে হেঁটে বিবাহিতদের জন্য তৈরি বিশেষ ‘এক্সট্রা ম্যারিটাল ডেটিং’ অ্যাপগুলো বর্তমানে দেশে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। বিশেষ করে এই ক্ষেত্রে শীর্ষস্থানীয় অ্যাপ ‘গ্লিডেন’-এর সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এনেছে। সংস্থাটির দাবি অনুযায়ী, ভারতে তাদের গ্রাহক সংখ্যা বর্তমানে ৪০ লক্ষের গণ্ডি ছাড়িয়ে গিয়েছে।
মেট্রো শহরগুলোতে এই ধরনের অ্যাপ ব্যবহারের হার সবথেকে বেশি। ভারতের সিলিকন ভ্যালি হিসেবে পরিচিত বেঙ্গালুরু এই তালিকায় শীর্ষস্থানে রয়েছে। মূলত আইটি পেশাদার এবং উচ্চবিত্ত শ্রেণির মানুষরাই এই অ্যাপের প্রধান ব্যবহারকারী। বেঙ্গালুরুর পরেই রয়েছে মুম্বই, দিল্লি ও কলকাতার নাম। দক্ষিণের শহর চেন্নাই এবং হায়দ্রাবাদও এই তালিকায় খুব একটা পিছিয়ে নেই, যা ভারতীয় সমাজ কাঠামোর পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারকারীদের সিংহভাগের বয়স ৩০ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে। এদের মধ্যে চিকিৎসক, ইঞ্জিনিয়ার এবং ব্যবসায়ীর মতো উচ্চপদস্থ পেশাদারদের সংখ্যাই সবথেকে বেশি। অনেক ক্ষেত্রেই দাম্পত্য জীবনে একঘেয়েমি কাটাতে বা নতুন বন্ধুত্বের খোঁজে তারা এই ডিজিটাল মাধ্যমকে বেছে নিচ্ছেন। ব্যবহারকারীদের গোপনীয়তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া এবং তথ্য সুরক্ষিত রাখাই এই অ্যাপের জনপ্রিয়তার মূল কারণ বলে মনে করা হচ্ছে।
চমকপ্রদ তথ্য হলো, এই বিশেষ ডেটিং অ্যাপগুলোতে মহিলাদের অংশগ্রহণও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ভারতীয় গ্রাহকদের একটি বড় অংশই নারী, যা প্রথাগত সামাজিক ধ্যান-ধারণার বদলকেই স্পষ্ট করে। নিরাপদ এবং গোপন উপায়ে নতুন মানুষের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ থাকায় মহিলারাও এই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে আগ্রহী হচ্ছেন। ২০২৬ সালের পরিসংখ্যান বলছে, গত বছরের তুলনায় এই অ্যাপের গ্রাহক সংখ্যা প্রায় ২০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
ভারতীয় সমাজে বিবাহকে একটি পবিত্র বন্ধন হিসেবে বিবেচনা করা হলেও নগরায়ন এবং বিশ্বায়নের প্রভাবে মানসিকতায় বড় বদল আসছে। বিশ্লেষকদের মতে, লকডাউন পরবর্তী সময়ে একাকীত্ব এবং দম্পতির মধ্যে মতবিরোধের জেরে অনেকেই এই বিকল্প পথের দিকে ঝুঁকছেন। তবে এই প্রবণতা দীর্ঘমেয়াদে যৌথ পরিবার প্রথা এবং পারিবারিক বন্ধনকে দুর্বল করে দিতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সমাজবিজ্ঞানীদের একাংশ।
সামগ্রিকভাবে, আধুনিক জীবনযাত্রার চাপ এবং মানসিক চাহিদার পরিবর্তনই ভারতকে গ্লিডেনের মতো অ্যাপের জন্য একটি বড় বাজারে পরিণত করেছে। বড় শহরগুলোর পাশাপাশি এখন মফস্বল এলাকাতেও এই সংস্কৃতির প্রভাব ছড়িয়ে পড়ছে। গোপনীয়তা রক্ষার নিশ্চয়তা পাওয়ায় এই ধরনের প্ল্যাটফর্মের ব্যবহার উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা সমকালীন ভারতের এক নতুন সামাজিক বাস্তবতাকে তুলে ধরেছে।